Cooch Behar | পরিকাঠামোর অভাব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, সেরার মর্যাদা টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ রামপুরের

Cooch Behar | পরিকাঠামোর অভাব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, সেরার মর্যাদা টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ রামপুরের

শিক্ষা
Spread the love


সায়নদীপ ভট্টাচার্য, বক্সিরহাট: রামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাজ্যের সেরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে পরপর তিনবার সুশ্রী কায়াকল্প প্রকল্পে পুরস্কার পেয়েছিল। গত বছর ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স স্ট্যান্ডার্ডের (এনকিউএএস) স্বীকৃতিও অর্জন করে। কিন্তু সেই মর্যাদা টিকিয়ে রাখাই এখন কোচবিহারের (Cooch Behar) বক্সিরহাটের রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে ওই হাসপাতাল পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিষেবার জন্য সেখানে গেলে অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব রয়েছে। এর জেরে রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ মনোরঞ্জন দাস বলেন, ‘ডাক্তার বা কর্মী সংখ্যার ঘাটতির কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছে। মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনও খামতি নেই। পুরস্কারপ্রাপ্তি কিন্তু সেই উদ্যোগের ফসল।’

সম্প্রতি রামপুরের বাসিন্দা আশুতোষ সরকার ওই হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসেন। তাঁর চোখের সমস্যা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘হাসপাতালে এসে শুনি ডাক্তার নেই। অগত্যা ভরসা ২০ কিলোমিটার দূরের তুফানগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল কিংবা গাঁটের কড়ি খরচ করে কোনও ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বার।’

ফলিমারির মায়া প্রধানের অভিজ্ঞতার কথাই ধরা যাক। মঙ্গলবার হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘ডাক্তারবাবু এক্স-রে করাতে বলেছেন। রামপুর হাসপাতালে সেটার ব্যবস্থা নেই। কোচবিহার জেলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ফলিমারি থেকে রামপুরে যাতায়াত করতে ১০০ টাকা খরচ হয়। অন্যদিন যদি ফের বাড়ি থেকে কোচবিহারে যেতে হয় তবে বাড়তি খরচ আরও ১০০ টাকা। সাধারণ দিনমজুরি করি। আমাদের পক্ষে কি এত খরচ করা সম্ভব!’

স্থানীয় সূত্রে খবর, আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে ফুলের টব দিয়ে সাজানো ছিল। হাসপাতালের গেটের সামনে থেকে ভেতর পর্যন্ত পরিষ্কার ছিল। কিন্তু বর্তমানে গোটা হাসপাতাল চত্বর আবর্জনার পাশাপাশি আগাছায় ভরে উঠেছে।

তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের রামপুর-১, রামপুর-২ ও ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েত ছাড়া আলিপুরদুয়ারের বারবিশা, কুমারগ্রাম সহ নিম্ন অসমের বিস্তীর্ণ এলাকার গড়ে প্রতিদিন ২৫০ জন মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগে পরিষেবা নিতে আসেন। সিজারের ব্যবস্থা না থাকলেও প্রতি মাসে গড়ে ৫-৮টি নর্মাল ডেলিভারি হয়। তবু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে এর ব্যবস্থা নেই। রক্ত পরীক্ষার জন্য সঠিক পরিকাঠামো নেই। মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে কোনওরকমে কাজ চলছে। এছাড়া নার্স চারজন, জেনারেল ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট (জিডিএ) চারজন আছেন। স্থায়ী সাফাইকর্মীও নেই। বাইরে থেকে দুজনকে নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেকদিন ধরে হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদটিও ফাঁকা।

অসম সীমানা ঘেঁষা তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের গ্রামীণ হাসপাতালটি যে ক্রমশ অবনতির পথে তা নিয়ে সংশয় নেই। তুফানগঞ্জ-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শীতলচন্দ্র দাসের মন্তব্য, ‘রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে আরও জোর দিচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে যেসব সমস্যা রয়েছে, আশা করছি সেগুলি দ্রুত মিটে যাবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *