Cooch Behar | নেপথ্যে জঙ্গি যোগ! দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে ‘বাংলাদেশি’ আরিফের খোঁজে দিনহাটায় এনআইএ

Cooch Behar | নেপথ্যে জঙ্গি যোগ! দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে ‘বাংলাদেশি’ আরিফের খোঁজে দিনহাটায় এনআইএ

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) পর দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে এবার কোচবিহারে (Cooch Behar) এনআইএ। জঙ্গিযোগের অভিযোগে বুধবার ভোরে একেবারে নিঃশব্দে দিনহাটা (Dinhata)-২ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দিনায় হানা দেয় এনআইএ-র তিন সদস্যের বিশেষ টিম। সেখানে আরিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চলে অভিযান। স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় চার ঘন্টা ধরে এই অভিযান চলে। যদিও বিপদ আঁচ করতে পেরে আগেই পালিয়ে যায় আরিফ। তাই তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তকারী দলের হাতে এসেছে আরিফের একটি ফোন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি আদতে বাংলাদেশের (Bangladesh) বাসিন্দা। বছর দশেক আগে ভারতে প্রবেশ করে। দিল্লিতে বছর পাঁচেক কাজ করার পর নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দিনা গ্রামে ঘাঁটি গেড়ে বসে সে। স্থানীয় ইসমাইল মিয়াঁর মেয়েকে বিয়ে করে গত পাঁচ বছর ধরে সে শ্বশুর বাড়িতে রয়েছে। সেইসঙ্গে নয়ারহাট একটি ছোটো কাপড়ের দোকান চালায়। এই দোকানের আড়ালেই কী জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে আরিফ? উঠছে প্রশ্ন। আরিফ যে বাংলাদেশ থেকে এসেছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন তার শাশুড়ি সাহেরা বিবি। তাঁর কথায়, গত পাঁচ বছর আগে তাঁদের আরিফের সঙ্গে পরিচয় হয়। তখনই আরিফ যে বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা, সে বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। তবে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠায় বিয়ে দেওয়া হয়। যদিও এবিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ আরিফের স্ত্রী। আরিফের শ্বশুর ইসমাইল কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত।

গতকালের অভিযানের কথা বলতে গিয়ে সাহেরা বিবি জানান, চারটি গাড়ি এসেছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজন হিন্দিতে কথা বলছিলেন। তিনজনই এনআইএ-র আইডেন্টিটি কার্ড দেখান। এরপর তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। আরিফের ব্যাংক, পাশ বই দেখার পাশাপাশি তার ফোনটি নিয়ে যায় এনআইএ-র টিম। তবে কেন এই অভিযান? উওরে এনআইএ জানায়, আরিফ বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। এদিকে অভিযানের পর থেকে থমথমে রয়েছে নন্দিনা গ্রাম।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর আলির কথায়, আরিফ অনেকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছিল। দীর্ঘদিন দিল্লিতে কাজ করার পর এই গ্রামে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে। তাঁর ভোটার কার্ডও রয়েছে, বিধানসভা ও লোকসভা ভোটও দিয়েছে সে। তবে তাকে নিয়ে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার সঙ্গে একমত নন বলে জানান মনসুর আলি। জানা গিয়েছে, এনআইএ-র তরফে আরিফের বাড়িতে দেওয়া সিজার লিস্টে যে ধারাগুলি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে জঙ্গি যোগ, জঙ্গি কার্যকলাপ সমর্থন করা, অর্থ সহযোগিতা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব ধারা আনা হয়েছে।

এনআইএ-র আসার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে কোচবিহার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই জানান, ২০২৩ সালের পুরোনো একটি মামলায় গতকাল ভোরে এনআইএ-র বিশেষ টিম দিনহাটার ওই গ্রামে আরিফের বাড়িতে যায়। তবে কী কেস, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে (Delhi Blast) প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। জখম একাধিক। এই ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছে গোটা দেশজুড়ে। গতকাল দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত করতে গিয়ে এনআইএ (NIA)-র টিম হাজির হয়েছিল মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার নিম গ্রামে। সেখানে মইনুল হাসান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে যায় এনআইএ। ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মইনুল পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক বলে জানা গিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে মইনুলের যোগাযোগ হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *