কোচবিহার: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিজেপি সাংসদ নগেন রায়ের চারজন অনুগামীকে গ্রেপ্তার করল কোতোয়ালি থানা ও নিশিগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কোচবিহার-১ ব্লকের বাসিন্দা পাটছড়ার পিন্টু রায় ও পানিশালার কৃষ্ণ কার্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে, রাতেই অভিযান চালিয়ে কোচবিহার শহর থেকে অপর এক অভিযুক্ত তথা নিশিগঞ্জ নিশিময়ী হাইস্কুলের শিক্ষক উত্তম বর্মনকে গ্রেপ্তার করে নিশিগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। এর পাশাপাশি সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ নয়ারহাটের বাসিন্দা বসন্ত দেবনাথ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধেও নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে।
বাকি আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নেতাজিকে নিয়ে প্রথমে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন নগেন। সেই মূল অভিযুক্ত নগেন এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তারই ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার।
নেতাজি ইস্যুতে কোনও অভিযুক্তকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহার থেকেই সবচেয়ে বেশি অভিযুক্তরা নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই পুলিশের সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যের পর কোচবিহার-১ ব্লকের একাধিক জায়গায় অভিযান চলে। এদিকে, বিপদ বুঝে অনেকেই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেতাজি সম্পর্কিত অবমাননাকর ভিডিও ও ছবিগুলি সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষক হয়েও ধৃত উত্তম বর্মন যেভাবে নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছে তা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভের পারদ জমেছে। এদিন গ্রেপ্তারির সময় তিনি বলেছেন, ‘আমি ভুল করে ওই মন্তব্যগুলি করেছি। তার জন্য ক্ষমা চাইছি।’
নেতাজিকে নিয়ে নগেনের বিতর্কিত মন্তব্যের শুরু হয়েছিল কোচবিহার জেলা থেকেই। দিনহাটায় গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সভায় যোগ দেওয়ার পর নগেন প্রথম নেতাজিকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেন। এরপর তার অনুগামীরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মন্তব্য করতে থাকেন। শুধু ভিডিও তৈরি বা লেখালিখিই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে নেতাজির একাধিক কুরুচিকর ছবি তৈরি করে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। বিজেপির তরফে এতোদিন সেগুলি নিয়ে কড়া বার্তা না দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি খারাপ দিকে যাচ্ছে দেখে বুধবার শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড়া হবে না। অভিযুক্তরা বড় কোনও পদে থাকলেও না। পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইতিমধ্যেই নেতাজি ইস্যুতে নগেনের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এতেই সন্তুষ্ট না হয়ে নগেনকে গ্রেপ্তার করে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ করার দাবিতে সরব হয়েছেন বহু মানুষ। এই প্রসঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সভাপতি দীপক সরকার বলেন, ‘শুধু নগেন রায়ের অনুগামীরা নয়, আমরা মূল অভিযুক্ত নগেনের গ্রেপ্তারি চাই।’

