কোচবিহার: শনিবার বা রবিবার নেই – দিনরাত প্রায় সবসময় কখনও কম্পিউটারের সামনে বসে, কখনওবা স্কুলে বা ট্রেজারিতে গিয়ে সরকারি বিভিন্ন কাজ তাঁদের করতে হচ্ছে। এতসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের ঠেলায় একে তো তাঁদের দম ফেলার সময় নেই, তার ওপর যদি ভুলভ্রান্তি হয়ে যায় তাহলে তাঁদের ওপর শাস্তির খাঁড়া নেমে আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহারে এখন এমনই অবস্থা মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার সেন্টারগুলির অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা জেলার প্রায় ৩৯ জন আধিকারিকের।
মাধ্যমিক সেন্টারের অফিসার ইনচার্জের পাশাপাশি এসআইআর-এর এইআরও-র দায়িত্বে থাকা এক অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কথায়, ‘রবিবার রাত দশটার মতো বাজে। তবুও আমাদের বসে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও কাজে সামান্য কোনও ভুলভ্রান্তি হলে আমাদের ওপর শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে। আমরা তো মানুষ। যন্ত্র না তো। এভাবে মেশিনের মতো দিনরাত কাজ করা কি মানুষের পক্ষে সম্ভব?’
প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, কোচবিহার জেলায় এবার ৩৩টি সেন্টারে মাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে এবং ৬টি সেন্টারে মাদ্রাসার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে। আর এই ৩৯টি সেন্টারে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে চালানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে সেন্টারগুলির অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের।
কোচবিহার জেলায় মাধ্যমিকে ২৫ জন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (এসআই) রয়েছেন। তাঁদের সকলকে এই অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৪ জন হলেন বিডিও অফিসগুলির বিভিন্ন আধিকারিক। এই সেন্টার অফিসার ইনচার্জদের দুই-চারজন বাদে প্রায় সবাইকেই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) এবং অ্যাডিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (এএইআরও) দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। তার ওপর অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নিজেদের দায়িত্ব তো রয়েইছে।
মাধ্যমিকের সেন্টার অফিসার ইনচার্জ হওয়ার কারণে সকালে ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনা, সেগুলি স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া, ঠিকভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করা সহ সব গুরুদায়িত্ব তাঁদের ওপর। অন্যদিকে এসআইআর-এর এইআরও হওয়ার কারণে যেসব হিয়ারিং হয়েছে, সেসব লগইন আইডি দিয়ে আপলোডও করতে হয়। তাছাড়া এসআইদের নিজেদের শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে এই ত্রিমুখী কাজে এখন নাজেহাল অবস্থা এই আধিকারিকদের।
