কোচবিহার: বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায় বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেতেই ভোল বদল উদয়ন গুহ–জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার। কিছুদিন আগে পর্যন্ত প্রকাশ্য সভা থেকে নগেনকে নানা কটাক্ষ করেছেন কোচবিহারের মন্ত্রী, সাংসদ। একাধিক প্রকাশ্য সভায় নগেনকে তুলোধোনা করেন জগদীশ। কিছুদিন আগেই তাঁকে ‘ভুয়ো মহারাজ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। উদয়নও বিভিন্ন সময়ে নগেনের কড়া সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এখন ভোট বড় বালাই। রাজবংশী ভোট পেতে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী নগেনকে ‘সন্তুষ্ট’ রেখে বঙ্গবিভূষণ দিলেন, আর হাওয়া বুঝে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছেন জগদীশরা। ফলে বিজেপি সাংসদ নগেন এখন যেন তৃণমূলের কাছে ‘ধোয়া তুলসীপাতা’।
গ্রেটার নেতা তথা বিজেপির সাংসদ নগেন রায় বরাবরই আলাদা কোচবিহার রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন। তবে তৃণমূল এই দাবির ঘোর বিরোধী। আলাদা রাজ্যের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে প্রকাশ্য এক সভায় উদয়ন গুহ নগেনের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আলাদা রাজ্যের দাবি যিনি করছেন তিনি একজন ধর্ষক।’ নগেন নিজেকে মহারাজা বলেই পরিচয় দেন। সেই প্রসঙ্গে উদয়ন ভাষণে বলেছিলেন, ‘অনন্ত মহারাজ (নগেন রায় এই নামেই পরিচিত) কেমন মহারাজ? ৫০ টাকার গামছা ৫০০ টাকায় বিক্রি করে ও বাড়ি বানিয়েছে।’ শুধু তাই নয় পরবর্তীতেও বিভিন্ন সভায় উদয়নকে তোপ দাগতে দেখা গিয়েছে নগেনের বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগে জগদীশ প্রকাশ্য সভা থেকে নগেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। নগেনকে ‘ভুয়ো মহারাজ’ বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
জেলার তৃণমূল নেতাদের একাংশ যখন নগেনের ‘মহারাজ’ উপাধি নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন তখন কলকাতার মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিমরা সঞ্চালককে নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে নগেনকে ‘মহারাজ’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এখন বিড়ম্বনায় পড়েছে জেলার ঘাসফুল শিবির। যে নগেনকে এতদিন তারা কটাক্ষ করে এসেছে এখন তাঁকে নিয়ে তাদের কী অবস্থান হবে তা বুঝতে বেগ পেতে হচ্ছে। অবশ্য জগদীশ এখন ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলছেন। এতদিন যেভাবে নগেনের সমালোচনা করেছেন তাঁকে বঙ্গবিভূষণ দেওয়ার পরও কি একইভাবে তাঁরা সমালোচনা করবেন? এই প্রশ্নের জবাবে কিছুটা কায়দা করেই জগদীশ বলেন, ‘অবস্থান, পরিপ্রেক্ষিত বুঝে, কখন কী অবস্থান থাকবে তা বুঝে কথা বলব।’ এতদিন নগেনের কড়া সমালোচনা করলেও উদয়ন অবশ্য এখন কৌশলী বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর কথা, ‘নগেন রায়ের রাজনৈতিক কাজকর্ম নিয়ে তাঁর সমালোচনা করেছিলাম। সামাজিক কাজকর্ম নিয়ে সমালোচনা করিনি।’
নগেনের সঙ্গে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রীর সখ্য বৃদ্ধি ও তাঁকে বঙ্গবিভূষণ দেওয়ার বিষয়ে বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে নগেনকে পাশে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের অবশ্য দাবি, ‘নগেন রায়কে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে সেটি রাজ্য সরকারের বিষয়। তবে তিনি আমাদের সাংসদ। আমাদের দলেই রয়েছেন। আমাদের দলের হয়েই কাজ করবেন।’
সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারের রাজনীতিতে এখন নগেন রায়কে নিয়েই সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে।
