উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জলপানের বিকল্প নেই (Consuming Water)। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে জল না খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে জল খাওয়ার সময় ও পরিমাপ নিয়ে অনেকের মধ্যেই ধোঁয়াশা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রাতে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য জলপানের অভ্যাস ও সময়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কেন রাতে জল প্রয়োজন?
দেহের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ সচল রাখতে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে জল অপরিহার্য। ঘুমের মধ্যেও শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়। এছাড়া শরীর থেকে টক্সিন বের করতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে জলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ঘুমানোর আগে সামান্য জল খেলে পরেরদিন মেজাজ ফুরফুরে থাকে এবং অবসাদ দূর হয়।
সমস্যা যেখানে
অতিরিক্ত জল খেলে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়। এর ফলে গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, যা পরেরদিন শরীরে ক্লান্তি ও কাজে অমনোযোগ তৈরি করে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্ধ্যার পর ফ্লুইড গ্রহণের পরিমাণের ওপর ঘুমের মান সরাসরি নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে জল খেয়ে নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে পেট ভরে বা গ্লাসের পর গ্লাস জল না খেয়ে সামান্য পরিমাণে জল খাওয়া ভালো।
সতর্কতা:
বিশেষ করে ৬০ বছর বয়সের বেশি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এবিষয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। তবে যাঁদের রাতে মুখ শুকিয়ে যায় বা পায়ে টান ধরে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণে জল খেতে পারেন।
পর্যাপ্ত ঘুম এবং শরীরের আর্দ্রতা—উভয় বজায় রাখাই সুস্থতার চাবিকাঠি। তাই ডিনারের আধ ঘণ্টা পর জল খেয়ে নিয়ে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত জল এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
