Congress | দেশভাগে আঙুল কংগ্রেসের দিকে

Congress | দেশভাগে আঙুল কংগ্রেসের দিকে

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


নয়াদিল্লি: ইতিহাসের তথ্য বদল। দেশভাগের জন্য ভারতের পাঠ্যপুস্তক লেখা হয়েছিল মহম্মদ আলি জিন্না (Muhammad Ali Jinnah) ও লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে (Lord Mountbatten) দায়ী করে। সেই সিলেবাস বদলে দিচ্ছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)। নতুন পাঠ্যসূচিতে দেশভাগের জন্য কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কংগ্রেসকে (Congress)।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ানোর পাঠ্যসূচিতে দেশভাগ সম্পর্কিত নতুন একটি অধ্যায় এজন্য সংযুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। ওই অধ্যায়ের যে মডিউল প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে, ‘দেশভাগ একজনের কাজ ছিল না। তিনটি শক্তি সম্মিলিতভাবে এই কাজ করেছিল। শক্তি তিনটি হল, জিন্না- যিনি দেশভাগের কথা প্রচার করেছিলেন, কংগ্রেস- যারা দেশভাগ মেনে নিয়েছিল এবং মাউন্টব্যাটেন- যাঁকে দেশভাগ কার্যকর করার জন্য পাঠানো হয়েছিল।’

মডিউলে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘দেশভাগের কারণে কাশ্মীর গোটা দেশের জন্য নিরাপত্তাগত সমস্যায় পরিণত হয়। সেই থেকে আমাদের একটি প্রতিবেশী দেশ এই সমস্যাকে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।’ বিরোধীরা মডিউলের এই বক্তব্যকে নস্যাৎ করলেও বিজেপি দু’হাত তুলে প্রশংসা করছে।
দলের নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, ‘আমরা তো তথ্য থেকে পালাতে পারব না। দেশভাগের সময় কারা নেতৃত্বে ছিলেন? মুসলিম লিগ আর নেহরুর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। দেশভাগের পক্ষে নেহরুর বক্তব্যও রয়েছে।’ মডিউলটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের মুখপাত্র পবন খেরার (Pawan Khera) বক্তব্য, যেহেতু ওই মডিউলে সত্যি কথা নেই, তাই অবিলম্বে সেটিকে পুড়িয়ে ফেলা দরকার।

তিনি বলেন, ‘হিন্দু মহাসভা এবং মুসলিম লিগের আঁতাতের কারণে দেশভাগ হয়েছিল। আরএসএস (RSS) এই দেশের পক্ষে বিপদ। ১৯৩৮ সালে প্রথমবার হিন্দু মহাসভা দেশভাগের ধারণার কথা প্রচার করেছিল। ১৯৪০ সালে সেই কথার পুনরাবৃত্তি করেছিলেন জিন্না।’ খেরার কথায়, ‘ইতিহাসের সবথেকে বড় খলনায়ক যদি কেউ থেকে থাকে, তবে তা আরএসএস। চরবৃত্তির যে ভূমিকা তারা নিয়েছিল, সেজন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কখনও আরএসএস-কে ক্ষমা করবে না।’

কংগ্রেসের সুরে সমালোচনা করেছেন এআইমিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-ও। তিনি বলেন, ‘দেশভাগ নিয়ে একই মিথ্যাচার বারবার করা হয়। সেসময় ২-৩ শতাংশ মুসলিমেরও ভোটাধিকার ছিল না। অথচ দেশভাগের জন্য এখনও আমাদের দোষারোপ করা হয়। যাঁরা চলে যাওয়ার, তাঁরা চলে গিয়েছেন। যাঁরা ভারতের প্রতি অনুগত ছিলেন, তাঁরা থেকে গিয়েছেন।’
বিজেপি জমানায় ইতিপূর্বে পাঠ্যসূচিতে মহাত্মা গান্ধির হত্যাকারী নাথুরাম গডসের সঙ্গে আরএসএসের সংশ্রব মুছে ফেলা হয়েছিল। হিন্দু মৌলবাদীদের তুষ্ট করতে এধরনের একের পর এক পদক্ষেপ বলে অভিযোগ উঠছে। বিরোধীরা সোচ্চার হয়েছে এই বলে, হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নপূরণে এনসিইআরটি-কে দিয়ে মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতি ঘটাচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *