কল্লোল মজুমদার, মালদা: ২০০৮ সালে পথ চলা শুরু করেছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় (College of Gour Banga)। প্রথম উপাচার্য ছিলেন সুরভী বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর থেকে এই ১৮ বছরে ১৩ জন স্থায়ী-অস্থায়ী উপাচার্য এসেছেন গৌড়বঙ্গে। কিন্তু গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো পড়ে রয়েছে সেই তিমিরেই। তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি পদে নেই কোনও স্থায়ী আধিকারিক। শুধু তাই নয়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ২৫টি কলেজের ছাত্রভর্তির আসন ৬২ হাজার ৫২০ হলেও, গত শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র ৩৫ হাজার ৫৯৩ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আপাতত রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, অডিট অফিসার, ইনস্পেকটর অফ কলেজেস, ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল), সিকিউরিটি অফিসার, ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান, সরকারি লাইব্রেরিয়ান, কন্ট্রোলার অফ এগজামিনেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আধিকারিক নেই। তবে এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্যকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
চলতি বছর ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগের পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয় জানতে চান। আর সেখানেই পড়ুয়াদের মুখ থেকে উঠে আসে একাধিক অভিযোগ। অভিযোগ ওঠে, আইনের ক্লাস করতে হয় প্রশাসনিক ভবনে। ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগে মাত্র একজন শিক্ষক। ফিলজফি বিভাগে দুজন শিক্ষক। ক্লাস হয় প্রশাসনিক ভবনের ঘরেই। ল্যাবরেটরিভিত্তিক একাধিক কোর্স চালু রয়েছে। কিন্তু ল্যাবরেটরিতে নেই কোনও টেকনিসিয়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কম্পিউটারই ব্যাকডেটেড। বহু কম্পিউটার অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শুধু পড়াশোনা নিয়ে নয়, পড়ুয়ারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিন বহুদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। একাধিক বাথরুম বেহাল দশায় রয়েছে। এমন বহু বাথরুম রয়েছে যার দরজার ছিটকানি লাগে না। নর্দমার জল সুষ্ঠুভাবে বের হয় না। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ছোট পরিষেবাগুলিও কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সমস্যা আরও আছে। গত ৩০ ডিসেম্বর উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য ল্যাবরেটরিভিত্তিক পঠনপাঠনের প্রথম সিমেস্টারের পড়ুয়াদের অভিযোগের কথা শুনেছিলেন। আর সেখানেই উঠে আসে পরিষেবার কঙ্কালের ছবি। গবেষক পড়ুয়াদের কাছ থেকে উপাচার্যকে শুনতে হয়, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক তাঁদের কিনতে হচ্ছে গাঁটের কড়ি খরচ করে। কিন্তু ওই বৈঠকই সার, এখনও পর্যন্ত কোনও সমস্যার সমাধান হয়নি। ক্ষোভ বাড়ছে পড়ুয়াদের মধ্যে।
সোমবার কথা হচ্ছিল এক গবেষক পড়ুয়ার সঙ্গে। তাঁর দাবি, ‘ল্যাবে রাসায়নিক অমিল। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও সেসব রাসায়নিক কবে আসবে তার ঠিক নেই।’ আরেক গবেষক ছাত্রীর কথায়, ‘শুধু বর্তমান উপাচার্যের কাছেই নয় আগের উপাচার্যদেরও আমরা সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু দেখব, দেখছি বলে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলা হয়েছিল।’ শুধু গবেষক পড়ুয়ারাই নয়, রাসায়নিকের অভাবে অধ্যাপকদের গবেষণার কাজও আটকে যাচ্ছে।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা ইসি সদস্য সাধন সাহার মন্তব্য, ‘আমরা পরিকাঠামোর সমস্যা নতুন উপাচার্যকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি কী উদ্যোগ নিয়েছেন, তা আমাদের জানা নেই।’
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক সনাতন দাসের বক্তব্য, ‘পড়ুয়াদের অভিযোগ শোনার পর উপাচার্য বলেছেন, টাকা এলেই সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় তো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাহলে এই ধরনের সমস্যা সমাধান করার ক্ষেত্রে কেন টাকা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?’
