College bus disaster | ৩২ আসনের বাসে সাড়ে তিনশো পড়ুয়া! ডুয়ার্সের চা বাগানে স্কুল বাসের বেহাল দশায় ক্ষোভ

College bus disaster | ৩২ আসনের বাসে সাড়ে তিনশো পড়ুয়া! ডুয়ার্সের চা বাগানে স্কুল বাসের বেহাল দশায় ক্ষোভ

শিক্ষা
Spread the love


নাগরাকাটা: জানুয়ারি মাসে নাগরাকাটার বামনডাঙ্গা-টন্ডু চা বাগানে নিখরচার সরকারি স্কুল বাস পরিষেবা চালু হয়েছিল। দেওয়া হয়েছিল তিনটি বাস। ছ’মাস না যেতেই সেই সংখ্যা এসে ঠেকেছে দুইয়ে। একটি বাস (College bus disaster) আগেই তুলে নেওয়া হয়েছিল। অন্যটির ঠিকানা ফ্যাক্টরি চত্বর। ফলে ‘সবেধন নীলমণি’ ৩২ আসনের একটি মাত্র বাসে চেপেই প্রায় সাড়ে তিনশো পড়ুয়ার স্কুলে যাতায়াত কার্যত এক প্রকার অসম্ভব।

১ তারিখ থেকে স্কুল খুলতেই পালা করে যাতায়াত শুরু করেছে পড়ুয়ারা। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা স্কুলে যাচ্ছে সোম থেকে বুধবার। অন্যদিকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যাওয়ার দিন বৃহস্পতি থেকে শনি। তাও বেশিরভাগই দাঁড়িয়ে ঠাসাঠাসি করে। পাদানিতে ঝুলে যাওয়ার দৃশ্যেরও অমিল নেই। বাস পরিষেবা শুরুর পরও এমন হাল কেন এই প্রশ্নে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে পড়ুয়া সহ অভিভাবক মহলে। সম্প্রতি ছাত্রছাত্রীরা ফের পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসের দাবিতে ব্লক প্রশাসনের কাছে দরবারও করে এসেছে। বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডলের আশ্বাস, ‘এই বাস পরিষেবা শ্রম দপ্তরের মাধ্যমে চালু হয়। উদ্ভূত সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

পূর্বতন সরকারের আমলে ডুয়ার্সের (Dooars) বেশ কিছু প্রত্যন্ত চা বাগানে ‘শিশু সাথী’ নামে স্কুল বাস পরিষেবা চালু হয়। টি ডিরেক্টরেটের মাধ্যমে কাজটি হচ্ছিল। বামনডাঙ্গা-টন্ডু গোটা ডুয়ার্সের নিরিখে অন্যতম প্রত্যন্ত বাগান হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন মূল ডিভিশন বামনডাঙ্গা থেকে ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা আসে সাত কিলোমিটার দূরের টন্ডু ডিভিশনের উচ্চপ্রাথমিক স্কুলে। সেখান থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়ারা যায় ১৮- ২৫ কিলোমিটার দূরের নাগরাকাটা, লুকসান, চম্পাগুড়ির বিভিন্ন হাইস্কুলে। জায়গা না পেয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্যও তৈরি হচ্ছে। শুক্রবার বামনডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা বাস আগে থেকেই ভর্তি হয়ে থাকায় টন্ডু ডিভিশনের বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীর পক্ষেই আর ওঠা সম্ভব হয়নি। ক্ষোভে বাসটিকে আটকেও দেওয়া হয়। পরে দু’শিফটে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে সেদিনের মতো সমস্যা মেটানো হয়। যদিও ওই ব্যবস্থা রোজ যে হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

বামনডাঙ্গার ভূপেশ গোপ নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘অল্প আসনের একটি বাসে এত ছাত্রছাত্রী কীভাবে যাবে? এখানে দরকার ছিল ৫২ আসনের বাসের ব্যবস্থা করা।’ টন্ডু ডিভিশনের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়ারাও সেখানকার উচ্চপ্রাথমিকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে নাগরাকাটা সহ লুকসান ও চম্পাগুড়ির স্কুলগুলিতেই ভর্তি হয়। মহাবীর ওরাওঁ নামে আরেক অভিভাবকের বক্তব্য, ‘আগে ট্র্যাক্টর, ক্যান্টর থাকলেও সরকারি স্কুলবাস চালু হওয়ার পর থেকে সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি ম্যাক্সিক্যাবে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে গেলে দিনে অন্তত ১০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। সেই সামর্থ্য আমাদের নেই। এভাবে চলতে থাকলে স্কুল যাওয়াই বন্ধ হয়ে যাবে।’

বামনডাঙ্গা চা বাগানের টন্ডু টিজি থ্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মীনারায়ণ সাউ বলেন, ‘খুব ঝুঁকি নিয়ে ও কষ্ট করে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিষয়টি প্রশাসন একটু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *