উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সংসদ ভবনের অভিমুখে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে উত্তাল হল আদালত কক্ষ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (Cockroach Janta Get together protest) সংসদ অভিযান চলাকালীন সংঘাতের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে (Delhi Police) চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব পেশের নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi Excessive Courtroom) । প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় (Chief Justice DK Upadhyaya) এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশি অভিযানের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি ও আনুসঙ্গিক নথিপত্র অবিলম্বে সংরক্ষণ করতে হবে।
বুধবার শুনানির শুরুতে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা কাঠগড়ায় তোলেন দিল্লি পুলিশকে। সিনিয়র আইনজীবী এন হরিহরণ ও বিকাশ সিং সওয়াল করেন, শান্তিপূর্ণ জমায়েত ও প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পেরেক লাগানো লাঠি, টিয়ার গ্যাস ও বিদ্যুৎবাহী ব্যাটনের মাধ্যমে ৯০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে। পোশাকে ব্যাজহীন সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা মহিলা বিক্ষোভকারীদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালিয়েছে বলেও আদালতকে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। অন্যদিকে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) প্রতিবাদের স্থান থেকে অপসারণের বিষয়টি তুলে ধরে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই অকাতরে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হয়েছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের ফাঁসাতে আগে থেকেই ইট-পাথর ভর্তি গাড়ি এনে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে
দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এস রাজু এই মামলাটিকে “পাবলিসিটি স্টান্ট” এবং প্রচার পাওয়ার মাধ্যম বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, ভিডিওগুলি যাচাই না করে মূলতঃ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত। তাঁর যুক্তি, আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নিয়েছিল, পাথর ছোঁড়ায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও জখম হন। ১৬৩ ধারা ভঙ্গ করায় এটি আর ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাবেশ ছিল না; এর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। তবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এস রাজুর ‘পাবলিসিটি’ সংক্রান্ত যুক্তি খারিজ করে প্রশ্ন তোলেন, “এটি কি শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? আইন ভঙ্গ হলে তা মোকাবিলার আইনি পথ রয়েছে। কিন্তু এত বড় একটি জনস্বার্থ মামলায় প্রতিজন আহত মানুষকে কি আলাদাভাবে থানায় যেতে বলা যুক্তিযুক্ত? আদালতকে কীভাবে বলা যায় এটি শুধুই প্রচারের উদ্দেশ্যে করা?” আদালত আপাতত কোনো ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের মধ্যে না গিয়ে দিল্লি পুলিশকে সিসিটিভি নথিভুক্ত রাখার কড়া নির্দেশ জারি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর।

