CM Suvendu Adhikari to go to North Bengal on Tuesday

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


ভাষার নাম কী? কামতাপুরি নাকি রাজবংশী! জানতে মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও কামতাপুরি বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি সহ সামাজিক সংগঠনের নেতা, বিদ্বজ্জন ও বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের তরফে কামতাপুর পিপলস পার্টি, অল কামতাপুর স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল এবং রাজবংশী ভাষার গবেষক, লেখকদের ওই বৈঠকে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রাজ্যের রাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন জানান, মঙ্গলবার উত্তরকন্যার বৈঠকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তাদের দাবির কথা তুলে ধরবেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরের প্রায় ৫০টি রাজবংশী ও কামতাপুরি সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। এছাড়াও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন-সহ একাধিক আধিকারিকের থাকার কথা সেখানে।

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের আগে মতুয়া মহাসংঘের আদলে কামতাপুরি ও রাজবংশী বিভিন্ন সংগঠনকে এক ছাতার তলায় আনতে রাজবংশী মহাসংঘ গঠনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই বিষয়ে রবিবার কোচবিহারের ল্যান্সডাউন হলে আলোচনা সভা হয়। সেখানে ২২টি কামতাপুরি ও রাজবংশী সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঠিক হয়েছে রাজবংশী মহাসংঘের সভাপতি হবেন নিশীথ প্রামাণিক। বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যমূলক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। কারণ, কামতাপুরি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের।

১৯৬৯ সাল থেকে পৃথক ‘কামতাপুর’ রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। অন্যতম দাবি ছিল কামতাপুরি ভাষার স্বীকৃতি। ১৯৯৬ সালের ৭ জানুয়ারি কামতাপুর পিপলস পার্টির গঠনের পর আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা নেয়। আগে একই দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত করেছিল উত্তরখন্ড দল। অন্যদিকে, গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠনের দাবি, রাজবংশী ও কামতাপুরি একই ভাষা। তারা ‘রাজবংশী’ নামকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এদিকে বিদ্বজ্জনদের একাংশ রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতির পক্ষে সওয়াল করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি পাঠান। স্বভাবতই কেন্দ্রীয় সরকার ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে সম্মত হলেও নামকরণের বিভ্রান্তির জন্য সেটা আটকে যায়।

রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, সেই জট খুলতে একদিকে রাজবংশী মহাসংঘ গঠনের উদ্যোগ। অন্যদিকে আজ, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কামতাপুরি ও রাজবংশী সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিদ্বজ্জনদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন। কামতাপুর পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় বলেন, “আমাদের দাবি এবং তার সপক্ষে বক্তব্য লিখিতভাবেও জানাতে বলা হয়েছে। দলের তরফে প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।”

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য দীপক রায় বলেন, “বৈঠকে থাকার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরব।” দীপকবাবুদের দাবি, ভাষার নাম রাজবংশী। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে যত গবেষণা হয়েছে সবই রাজবংশী ভাষা হিসেবে মান্যতা পেয়েছে। অন্যদিকে নিখিলবাবুদের দাবি, ভাষার নাম কামতাপুরি। ওই নামকরণের পক্ষে যথেষ্ট নথি তাদের কাছে রয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে এদিনের বৈঠকে বিতর্কের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *