উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: হুকিং বা বিদ্যুৎ চুরির মতো বাংলার দীর্ঘদিনের পুরোনো সমস্যা মোকাবিলায় এবার প্রযুক্তিকেই বড় হাতিয়ার করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবন থেকে বিশেষ অ্যাপের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ (Bidyut Prahari)। এই অ্যাপের মাধ্যমেই এখন থেকে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ চুরি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ নিমেষে জানাতে পারবেন। পাশাপাশি, এদিন বিদ্যুৎ দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় এখনও আকছাড় বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ সামনে আসে। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়লেও তার প্রকৃত সমাধান বা ফিডব্যাক মিলত না। সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে আনা হয়েছে ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ। সল্টলেকের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা একশো শতাংশ বন্ধ করতে হবে। ফ্যাক্টরি ও বড় বাণিজ্যিক ভবনগুলির বকেয়া বিল আদায়ের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বহু বাণিজ্যিক ভবনের বিল বকেয়া পড়ে থাকে এবং মালিকরা প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হন। তবে তাতে ছাড় মিলবে না, অবিলম্বে নোটিশ পাঠিয়ে বকেয়া বিল আদায় করতে হবে। তবে সাধারণ গৃহস্থালির বা ডোমেস্টিক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিগত রেকর্ড খতিয়ে দেখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এই অ্যাপ? অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে খুব সহজেই ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপটি ইনস্টল করতে পারবেন। অ্যাপটি খোলার পর স্ক্রিনে বিভিন্ন অপশন ভেসে উঠবে, যার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো যাবে এবং অভিযোগের বর্তমান স্ট্যাটাসও ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, বিদ্যুৎ চুরি বা হুকিংয়ের মতো বিষয়ে অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখা হবে। দপ্তরের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা এই অ্যাপের ওপর নজরদারি চালাবেন, ফলে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ করা যাবে।
অন্যদিকে, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ দপ্তরের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে বড়সড়ো ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন নিয়োগে নানা সুপারিশ বা কারচুপির অভিযোগ উঠত। সেই পথ বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে বিদ্যুৎ দপ্তরের যাবতীয় নিয়োগ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) (PSC)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এর ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং প্রার্থীরা সঠিক পথে মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাবেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

