উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পূর্বতন সরকারের আমলের একাধিক বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। শনিবার বিধানসভার অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রদপ্তরের একাধিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সনাতন ধর্মের আস্থার প্রতি আঘাত হানার অভিযোগে এক আইপিএস অফিসার সহ মোট পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে (Police Personnel Suspended)।
বিধানসভায় কালিয়াগঞ্জের এক ছাত্রীকে খুনের ঘটনা তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, সেই সময় অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু তা সত্ত্বে শুরু হয় পুলিশি ধরপাকড়। এরপর আন্দোলনে যাওয়ার অপরাধে গভীর রাতে পুলিশের টিম এক রাজবংশী তরুণ মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের বাড়ি গিয়ে তাঁর বুকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কালিয়াগঞ্জ থানার তৎকালীন এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের ও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে বড়তলা থানায় ডেকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে হেনস্তা করার অভিযোগে তৎকালীন আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী এবং তদন্তকারী অফিসার এসআই সাধন দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এছাড়াও, কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনে লাঠিচার্জ ও অশালীন আচরণের অভিযোগে ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কাকদ্বীপের সূর্যনগরে প্রতিমা ভাঙার প্রতিবাদে চলা আন্দোলনের জেরে আইপিএস কোটেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বে জনতার ওপর লাঠিচার্জ এবং মা কালীর মূর্তি প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনাকে সনাতন ধর্মের আস্থার ওপর চরম আঘাত বলে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনার জেরে আইপিএস কোটেশ্বর রাওকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে পুলিশ মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

