উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বুধবার থেকে শুরু হতে চলেছে নতুন সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar)-এর প্রাথমিক প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার কল্যাণীতে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পুরোপুরি কার্যকর না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষের জন্য ‘মা ক্যান্টিন’-এ সাশ্রয়ী মূল্যে মাছ-ভাত দেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুধবার নবান্ন (Nabanna) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হবে। আবেদনকারীরা অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। যারা এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে আগ্রহী, তাঁদের নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতামান সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা বুধবারই প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দ্রুত এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়া। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা টাকা পেতে শুরু করতে পারেন। এই তালিকা তৈরির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক বৈঠকে শুধু নতুন প্রকল্পের ঘোষণাই নয়, সাধারণ মানুষের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে ‘মা ক্যান্টিন’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, এখন থেকে সপ্তাহে দু’দিন মা ক্যান্টিনে ৫ টাকায় মাছ-ভাত খেতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সরকারের দাবি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে মানুষের হাতে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ স্বরূপনগরের বিধায়ক বীনা মণ্ডল, দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান এবং হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মাতিন। বৈঠক চলাকালীন উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলির জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছ থেকে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি পরিষেবাগুলো যাতে দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেই বিষয়ে বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের এই জোড়া পদক্ষেপ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা তৃণমূল স্তরের মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।
