অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার : মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম আলিপুরদুয়ার আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসন সূত্রের খবর, ২২ সেপ্টেম্বর গন্ডার দিবসে জেলায় আসার কথা তাঁর। অন্যদিকে, ২ অক্টোবর বক্সায় বাঘ ছাড়ার অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শুভেন্দুর। এনিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে।
২ অক্টোবর বাঘ ছাড়ার মূল অনুষ্ঠান বক্সায় হবে। এর অঙ্গ হিসেবে অপর একটি কর্মসূচি হবে প্যারেড গ্রাউন্ডে। প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। যদিও সব চূড়ান্ত নয়। পাশাপাশি গন্ডার দিবস সফল করতেও তৎপর বন দপ্তর। এজন্য জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন দপ্তর সূত্রে খবর, গন্ডার দিবসের জন্য দুটো জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। মাদারিহাট হাইস্কুলের পাশের মাঠ কিংবা হাসিমারার কাছে সুভাষিণী চা বাগানের মাঠে অনুষ্ঠানের ভাবনা চলছে।
রবিবার জেলার প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে দুটো মাঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন বলে খবর। বৈঠকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ ও বিশাল লামা, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা, বন দপ্তরের সহকারী মুখ্য সচিব মণীশ জৈন, রাজ্যের মুখ্য বনপাল সন্দীপ সুন্দ্রিয়াল, উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল জেভি ভাস্কর সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বনমন্ত্রীর কথায়, ‘দুটো জায়গা দেখা হয়েছে। তার মধ্যে যে কোনও একটি জায়গায় তো অনুষ্ঠান হবেই। আর মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানের কথা শুনে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, এটাই বড় প্রাপ্তি।’
কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণীর দাঁত, আঁশ, চামড়া, সিং, খড়্গ উদ্ধার করেছে বন দপ্তর। গন্ডার দিবসে সেসব পুড়িয়ে ফেলা হবে। বনমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘ওগুলো পোড়ানো আসলে চোরাকারবারি এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা। বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারের চেষ্টা করলে যে কড়া পদক্ষেপ হবে, সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
গন্ডার দিবস উপলক্ষ্যে একটি প্রদর্শনী হবে। তাতে অংশ নেবে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করা হবে। ওই দিন মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও কাজের সূচনা হতে পারে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনের পাশাপাশি জঙ্গল সাফারিতেও যেতে পারেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

