উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দিল্লির যন্তর মন্তরের (Jantar Mantar Protest) ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করার অভিযোগে ধৃত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) (CJP) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেপাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়িয়ে দিল স্পেশ্যাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। এর আগে পাঁচ দিনের জেল হেপাজত শেষে সোমবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ঋতু রাজ এই নির্দেশ দেন। লিখিত আদেশে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ধৃতদের আচরণে ‘আইনের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা পরিলক্ষিত হয়নি’।
পুলিশি তদন্ত ও নথির ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছে, ধৃত দুই সিজেপি নেতা সর্বসাধারণকে প্ররোচিত ও সংগঠিত করে নিষিদ্ধ ঘেরাটোপের মধ্যে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও সিজেপি নেতৃত্ব পূর্বে মুচলেকা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারা সমস্ত শর্ত মেনে চলবেন এবং কোনোভাবেই শান্তিভঙ্গ করবেন না, তা সত্ত্বেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যন্তর মন্তরের মতো নিষিদ্ধ স্থানে জমায়েত হওয়ার ডাক দেওয়া হয়। আদালতের স্পষ্ট কথা, শর্ত মেনে চলার লিখিত আশ্বাস সত্ত্বেও তাঁরা তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
শুনানিকালে সৌরভ ও আশুতোষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁদের মক্কেলরা পৃথকভাবে সেখানে পৌঁছেছিলেন এবং ভবিষ্যতে তাঁরা কোনো আইন লঙ্ঘন করবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেন। তবে প্রতিপক্ষ তদন্তকারী সংস্থার তথ্যের মুখে তাঁদের জামিনের আর্জি নামঞ্জুর হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর এই দুই তরুণ আহ্বায়ককে আটক করার পর গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)।অন্যদিকে আদালতের এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব। দলটির অভিযোগ, সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অজুহাতে যেভাবে তাদের নেতাদের আটকে রাখা হচ্ছে, তা আসলে ‘আইনি প্রক্রিয়ার প্রহসন এবং প্রশাসনের অতি সক্রিয়তা’ ছাড়া কিছুই নয়। জামিন আবেদন বাতিল ও হেপাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে সিজেপি-র তোপ, এর মাধ্যমে স্পষ্টত ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে’।

