উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার কালীঘাট এলাকার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে হঠাৎ সিআইডি (CID Raid at Kalighat) আধিকারিকদের উপস্থিতি ঘিরে ফের তৈরি হলো রহস্য। তবে এবার তদন্তকারীরা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়িতে নয়, বরং তাঁর আত্মীয়ের একটি ফ্ল্যাটে পৌঁছেছেন। জানা গিয়েছে, ২৯/ডি নম্বর বাড়ির ওই ফ্ল্যাটে মমতার এক বোন বসবাস করেন। হঠাৎ এই হানা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
আজ দুপুর নাগাদ সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল হঠাৎ ওই এলাকায় এসে পৌঁছায়। স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটের দিকে এগিয়ে যান। ভেতরে প্রবেশের আগে আধিকারিকরা স্থানীয়দের কাছে একাধিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এরপর তাঁরা সেই ফ্ল্যাটে যান, যেখানে মমতার ওই আত্মীয় থাকেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিধায়কদের সই জাল করা সংক্রান্ত একটি মামলা ও ডিজে মন্তব্যের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সিআইডি বেশ তৎপর। এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল এবং তৃণমূলের পার্টি অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে আজকের এই আচমকা হানা ঠিক কোন মামলার প্রেক্ষিতে, তা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। রহস্য আরও দানা বেঁধেছে কারণ, এই এলাকায় সিআইডির নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও সরাসরি পরিবারের সদস্যদের ফ্ল্যাটে এমন তল্লাশি খুব একটা দেখা যায়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একে সম্পূর্ণভাবে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদিও রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনগত তদন্তের বিষয়।
সিআইডির এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— ঠিক কী খুঁজে পেতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা? কোনো গোপন তথ্য কি আছে ওই ফ্ল্যাটের অন্দরে? আপাতত সিআইডির নীরবতায় সেই রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তকারীরা পরবর্তী ধাপে কী পদক্ষেপ নেন।

