উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছিল, তার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে এবং প্রশাসনিক স্তরে কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২১ অক্টোবর এই মর্মে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শের পরই এই উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গঠিত এই বিশেষ দলটির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Courtroom) অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে (Anindita Roy Saraswati)। রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কমিটিকে সমগ্র ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করে নিজেদের রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।
এই বিশেষ তদন্তকারী দলটিতে মোট ছয়জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) ডিজি ও আইজিপি, রাজ্য পুলিশের ডিজির একজন মনোনীত প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধি এবং কলকাতায় কর্মরত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF)-এর একজন বিশেষ প্রতিনিধি। মূলত চোরবাগান মণ্ডপের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কোনও ধরনের প্রশাসনিক বা পরিচালনাগত ত্রুটি ছিল কি না, তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবে এই দল। বিশেষ করে দুর্ঘটনার ওই দিনটিতে পুজো কমিটির আয়োজক, পুলিশ প্রশাসন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, সেই সঙ্গে দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে কতটা সজাগ ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার সময়ের ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন বা সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও, পুলিশের কন্ট্রোল রুমের রেজিস্টার ও নথিপত্র, চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এবং অন্যান্য সমস্ত অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তা বৈজ্ঞানিক ও আইনগতভাবে পরীক্ষা করবে এই তদন্ত দল।
পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট পুজো মণ্ডপটিতে মণ্ডপ তৈরির অনুমতি দেওয়ার সময় সমস্ত সরকারি নিয়ম ও গাইডলাইন যথাযথভাবে মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উপচে পড়া ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য পুজো কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা বা ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত ছিল কি না এবং কোনও জরুরি বা বিপদের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও নিরাপদে বাইরে বের করে আনার পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত রাখা হয়েছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, কলকাতা পৌরসংস্থা, পূর্ত দপ্তর, ফায়ার সার্ভিস বা দমকল বিভাগ কিংবা এর সঙ্গে জড়িত অন্য কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বা ব্যক্তির কর্তব্যে কোনো অবহেলা বা সমন্বয়ের অভাব ছিল কি না, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করবে এই বিশেষ তদন্তকারী দল।
