উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের (Chorbagan Stampede) ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য স্বাস্থ্যভবন। বড় কোনো বিপর্যয় বা হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি এড়াতে এবং উৎসবের বাকি দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শনি ও রবিবার প্রকাশিত ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শহরের প্রধান হাসপাতালগুলির সমস্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্য আধিকারিক ও কর্মীদের পুজো চলাকালীন সমস্ত ছুটি অবিলম্বে বাতিল করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতার শীর্ষস্থানীয় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র—এনআরএস (NRS), আরজি কর (RG Kar), কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের পক্ষ থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পুজো মণ্ডপগুলিতে বিশেষ মেডিক্যাল টিম মোতায়েন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে সমস্ত জনবহুল মণ্ডপ ও পুজো চত্বরে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, টালা প্রত্যয়, কলেজ স্কোয়ার, একডালিয়া এভারগ্রিন এবং চেতলা অগ্রণী
নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত এই সমস্ত পুজো মণ্ডপগুলিতে নির্ধারিত মেডিক্যাল টিমের অংশ হিসেবে অন্তত একজন করে চিকিৎসক উপস্থিত থাকবেন।
জরুরি অবস্থার মোকাবিলা করতে কলকাতার কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে অর্থোপেডিক (Orthopedic), নিউরো সার্জন (Neuro Surgeon) এবং অ্যানাস্থেটিস্টদের (Anaesthetist) উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, রক্তের জোগান (Blood Financial institution) এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, উৎসবের মরসুমে কোনো ধরনের ঢিলেঢালা ভাব বরদাস্ত করা হবে না। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কড়া নির্দেশ অমান্য করলে বা কর্তব্যে গাফিলতি ধরা পড়লে সরাসরি সাসপেন্ড (Droop) করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, দক্ষিণেশ্বরের উপচে পড়া ভিড় এবং উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে প্রতিমা বিসর্জনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অনুষ্ঠানগুলির কথা মাথায় রেখে বাড়তি সতর্কতা ও ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে (CMOH)। চোরবাগানের শিক্ষা থেকেই এবার চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে স্বাস্থ্যভবন।

