উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ এ কী কাণ্ড! রাজ্যের ৪৪ জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম! সব মায়া। এসআইআর না হলে তো জানাই যেত না মায়ার কী খেল। উত্তর থেকে দক্ষিণ, গোটা রাজ্য জুড়েই পদবি, বাসস্থান বদলে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে মায়ারানি নামে এক মহিলার। এনুমারেশনের কিউআরকোড স্ক্যান করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট বিএলওর। তখনই সামনে আসে এই আজব কাণ্ড। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। নিছক ভুল না কি পাকা মাথার কাজ, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুরু হয়েছে বিতর্ক।
কে এই মায়ারানি?
জানা গিয়েছে, হাওড়ায় তিনি মায়ারানি রায়। তিনিই বাঁকুড়ায় মায়ারানি মুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে মায়ারানি প্রামাণিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে মায়ারানি নাইয়া! আবার উত্তর ২৪ পরগনায় তিনিই মায়ারানি মণ্ডল, বর্ধমানে মায়ারানি কোঙার, দক্ষিণ দিনাজপুরে মায়ারানি রায়! এই ভাবে রাজ্যের ৪৪টি জায়গায় ভোটার তালিকায় রয়েছে মায়ারানির।
পেশায় রাঁধুনি মধ্যবয়স্কা মায়ারানি পদবি ও বাসস্থান বদলে ৪৪ জায়গায় নাম তুলেছেন ভোটার তালিকায়। এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, এই ভাবে রাজ্যজুড়ে ভুতুরে ভোটার তৈরি করে ভোটার তালিকায় নাম ঢুকিয়েছে তৃণমূল। বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বছর কয়েক আগেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ডিভিসি পাড়ার ভোটার মায়ারানি গোস্বামীর। ৪৭ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। তাঁর এনুমারেশন ফর্মে কোড স্ক্যান করতে গিয়ে তাজ্জব বনে যান বিএলও। তিনি দেখেন, ভোটার হিসেবে মায়ারানির নাম রয়েছে রাজ্যের ৪৪ জায়গায়।
রাজ্যের ৪৪ জায়গায় নাম থাকার খবরে বিস্মিত নন মায়ারানি। তিনি জানান, বাসাবাড়ি রান্নার কাজ করে কোনওমতে দিন চলে। পেয়েছেন আবাসের ঘর। পাড়ার সবাই এসআইআরের ফর্ম ফিলাপ করেছে, তাই তিনিও ফর্ম পূরণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার একটাই ভোটার কার্ড। শুরু থেকে আমি বৈদ্যনাথপুর স্কুলে ভোট দিই। এসআইআরের ফর্ম পাড়ার সবাই পূরণ করেছে। আমিও করেছি। তার পর জনে জনে আমাকে এসে প্রশ্ন করছেন। তবে অনেকেই বলেছেন, আমার কোনও ভয় নেই।’
নির্বাচবন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমানের এই মায়ারানির নামে ৪৪টি ভুয়ো এপিক কার্ড রয়েছে। প্রতিটি কার্ডেই তাঁর নামের পাশে পদবি ভিন্ন। এই প্রসঙ্গে, পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “এসআইআর হচ্ছে বলে তো এটা বেরল। না-হলে তো কোনও দিন জানাই যেত না যে এমন ভোটারও বাংলায় আছেন। এর জন্য মায়ারানিকে দোষ দেওয়া যায় না। তৃণমূল এই রকমের অসহায় মানুষের নাম ব্যবহার করে জায়গায় জায়গায় ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরি করেছে রাজনৈতিক স্বার্থে”। তিনি দাবি করেছেন অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করুক কমিশন।
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রবিন পালও বলেন, ‘‘কমিশন দ্রুত তদন্ত করুক। কে বা কারা এমন চক্র চালাচ্ছে, তা খুঁজে বার করা হোক। তবে ভুক্তভোগী মহিলার যেন কোনও ক্ষতি না হয়, সেটাও দেখা প্রয়োজন।’’
বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, ‘‘এটা তো নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিত! শুধু এই রাজ্য নয়, অন্যান্য রাজ্যের এমন ঘটনা ঘটেছে। এরজন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন।’’ পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নাম্লম এসের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ নিছক ভুল না কি পাকা মাথার কাজ, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুরু হয়েছে বিতর্ক।
