উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ফের প্রকাশ্যে এল এক উদ্বেগজনক খবর। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, চীনের (China) জিনজিয়াং প্রদেশের মরুভূমিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক ‘আরলে বার্ক’ (Arleigh Burke)-ক্লাস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি তৈরি করেছে চীন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশালাকার কাঠামোটি মূলত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রুইচিয়াং টেস্ট রেঞ্জে গড়ে তোলা এই সামরিক স্থাপনাটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ কাঠামো নয়। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, এটি একটি ৬ মিটার চওড়া রেল সিস্টেমের ওপর বসানো হয়েছে, যা রণতরীর নড়াচড়াকে অনুকরণ করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি চীনের ‘অ্যান্টি-শিপ’ বা জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই পদক্ষেপটি প্রথাগত সামরিক কৌশলের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবধর্মী। আগে কেবল সমতল নকশা দিয়ে মহড়া চালানো হলেও, এবারের এই ত্রিমাত্রিক (3D) প্রতিকৃতিটি রাডার সিগনেচার, ইনফ্রারেড সেন্সর এবং টার্মিনাল গাইডেন্স সিস্টেম পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বেইজিং কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে মার্কিন রণতরীগুলোকে প্রতিহত করার প্রস্তুতি তুঙ্গে রেখেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আরলে বার্ক’ ক্লাস ডেস্ট্রয়ারগুলো বর্তমানে তাদের নৌবহরের প্রধান সম্পদ হিসেবে কাজ করে। এগুলো এয়ার ডিফেন্স এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অত্যন্ত দক্ষ। চীনের এই সামরিক মহড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে সংঘাত হলে চীনের প্রধান লক্ষ্য হবে আমেরিকার এই অত্যাধুনিক রণতরীগুলোকেই নিষ্ক্রিয় করা।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মরুভূমির এই নির্জনতায় পরীক্ষা চালানোর মাধ্যমে চীন বাইরের নজরদারির আড়ালে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সেন্সর ফিউশনকে আরও নিখুঁত করে তুলছে। যদিও বেইজিং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে উপগ্রহের সাম্প্রতিক ছবিগুলো স্পষ্টতই বিশ্বমঞ্চে এক নতুন সামরিক সংকেত দিচ্ছে।

