উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা যায়, তার এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব ঘটনার পর্দাফাঁস করল পুলিশ (Chhattisgarh Query Paper Leak)। ছত্তীসগঢ়ের ইন্দিরা গান্ধি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইজিকেভি) স্নাতকস্তরের কীটতত্ত্ব (এন্টোমোলজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এক অধ্যাপকসহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অত্যন্ত সন্তর্পণে মুখবন্ধ খামে সুচ দিয়ে ছিদ্র করে তার ভেতর দিয়ে পাতলা এনডোস্কোপি ক্যামেরা ঢুকিয়ে এই জালিয়াতি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ২৮টি কলেজে গত ২০ অগস্ট কীটতত্ত্বের স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষার্থীদের মোবাইলে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ায় হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা বাতিল করে দেয়। এরপরই শুরু হয় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৭ অগস্ট পরীক্ষার ঠিক তিন দিন আগে রায়পুরের জোরায় কৃষি কলেজে উত্তরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত অধ্যাপক যোগেশ সোনকেসারিয়া। সেখানে তিনি দ্বিতীয় বর্ষের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। কলেজে বাকি সব বিষয়ের প্রশ্নপত্র জমা দিলেও, কীটতত্ত্বের খামটি তিনি সযত্নে নিজের বাড়ি নিয়ে চলে যান।
মুখবন্ধ খাম না খুলেই কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে আনা যায়, সেই ফন্দি আঁটতে শুরু করেন ওই অধ্যাপক। তদন্তকারীদের দাবি, বাড়ি ফেরার পথে তিনি একটি এনডোস্কোপি করার পাতলা ক্যামেরা কেনেন। এরপর বাড়িতে ফিরে খামের গায়ে সুচ দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি ছিদ্র করেন। সেই ছিদ্রের মাধ্যমেই ক্যামেরার লেন্স খামের ভেতরে প্রবেশ করান। ক্যামেরার পর্দায় ভেসে ওঠা প্রশ্নপত্রের ছবিগুলি ক্যামেরাবন্দি করে তা পরীক্ষার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯ অগস্ট, তিন জন পড়ুয়ার কাছে ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। পরবর্তী সময়ে সেই ছবি হাতবদল হয়ে আরও বহু পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সেলের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানী তথা অধ্যাপক এনআর রাঙ্গারে ২০ অগস্ট সকালে প্রথম প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সাইবার সেলের সহায়তায় অভিযুক্তদের নাগাল পায় পুলিশ। দুর্গের এক কলেজছাত্র অনুজ মিঞ্জলকে আটক করে জেরা করার পরই মূল চক্রের সন্ধান মেলে। এরপর একে একে অধ্যাপক যোগেশ সোনকেসারিয়া এবং অন্য পাঁচ পড়ুয়া—অজয় নায়েক, ত্রিদেব পটেল, মিতিন পান্ডে ও আদিত্য সাহুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুই সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

