চ্যাংরাবান্ধা: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনের (Banladesh Election 2026) রেশ কাটিয়ে ফের চেনা ছন্দে ফিরল চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর (Changrabandha Border)। শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি ও নির্বাচনকালীন তিন দিনের বিরতি শেষে শনিবার থেকে ভারত, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পুনরায় শুরু হলো ত্রিদেশীয় বৈদেশিক বাণিজ্য (IndoBangla Commerce)। এদিন ভারত ও ভুটান থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের পাশাপাশি ওপার থেকেও ট্রাক ভারতে আসতে দেখা গেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সীমান্ত গেট খোলায় ট্রাক চালকদের মধ্যে খুশির হাওয়া। কলকাতার চালক আব্দুল মান্নান বা পাঞ্জাবের দেবেন্দ্র সিং—সকলেরই আশা, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় এবার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে ভারতীয় চালক শহিদুল ইসলামের কণ্ঠে ধরা পড়েছে উদ্বেগের সুর; তিনি নতুন সরকারের কাছে চালকদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে আসা চালক মহঃ সুমন আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন জোগাবে এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।
চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার কানু জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাণিজ্যে নানা প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছিল। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পণ্য আমদানি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর বাণিজ্যিক মন্দা কাটবে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি পুনরায় চাঙ্গা হবে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য একটি বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতও ছিল স্বাভাবিক। চিকিৎসার প্রয়োজনে নীলফামারী থেকে সস্ত্রীক আসা মইবুল ইসলাম মিলন জানান, ১৯৭১-এর বন্ধুত্বের কথা মাথায় রেখে নতুন সরকারের উচিত ভ্রমণ ভিসা পুনরায় চালু করা। অন্যদিকে, ভারত থেকে চিকিৎসা করিয়ে ফেরা রংপুরের মনোরঞ্জন চন্দ্র বর্মনের আর্জি, নতুন সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা যেন স্বাধীন ও নিরাপদভাবে বসবাস করতে পারেন। আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের এই কর্মব্যস্ততা যেন কেবল বাণিজ্যের পুনরুদ্ধার নয়, বরং দুই দেশের মৈত্রীর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
