চ্যাংরাবান্ধা: চ্যাংরাবান্ধার (Changrabandha) ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের দখল নিল বিজেপি। রাজ্যের পালাবদলের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চ্যাংরাবান্ধায় প্রথমবারের জন্য বিজেপির (BJP) পঞ্চায়েত সদস্য সুনির্মল গুহ এদিন চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত জুলাই মাসে চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধান ইলিয়াস রহমান ও উপপ্রধান স্বপ্না রায় বর্মন নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। এর পরবর্তীতে প্রধান না থাকায় স্থানীয়দের বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হয়। এই আবহেই সোমবার সকাল থেকেই বিজেপির প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে গ্রাম পঞ্চায়েতের দপ্তরকে নিরাপত্তার নিশ্চিদ্র বলয়ে মুড়ে দেয় মেখলিগঞ্জ (Mekhliganj) পুলিশ বাহিনী। এরই মাঝে বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা ভিড় জমান পঞ্চায়েত দপ্তরের সামনে। রীতিমতো ছোটখাটো মেলার মতো ভিড় জমে ওঠে এলাকায়।
অধীর আগ্রহে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বরাও ফুলের মালা, গেরুয়া আবির নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সুনির্মল গুহ দপ্তরের বাইরে বেরিয়ে আসতেই কর্মীদের উচ্ছাস বাঁধ ভাঙ্গে। ফুলের মালা এবং আবিরে তাঁকে বরণ করে নেন কর্মীরা। চ্যাংরাবান্ধার প্রচুর সাধারণ মানুষেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২২ জন সদস্যের মধ্যে বিজেপির চারজন এবং বাকিরা তৃণমূলের। এদিন বিজেপি সদস্যরা ছাড়াও তৃণমূলের বেশ কিছু সদস্যদের সমর্থনে বিজেপি পঞ্চায়েত দখল করে।
দায়িত্ব নিয়ে চ্যাংরাবান্ধার নতুন প্রধান সুনির্মল গুহ বললেন, “স্বাধীনতার পর প্রথমবার চ্যাংরাবান্ধায় ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতা দখল করল। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর উন্নয়ন সব বিষয়ে অগ্রগতির শিখরে পৌঁছাবে চ্যাংরাবান্ধা। এলাকার শিশু উদ্যান প্রতিষ্ঠাও আমার একটি স্বপ্ন। সে বিষয়ে পদক্ষেপ হবে।”
এই বিষয়ে চ্যাংরাবান্ধা বাজারের ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, “নতুন প্রধানের কাছে চ্যাংরাবান্ধা বাজারে নিকাশি ব্যবস্থা থেকে রাস্তা চওড়া করা এবং টোটো স্ট্যান্ড করা এবং আরও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করার দাবি রাখব।”

