সামসী: আন্তর্জাতিক ক্যারাটে মঞ্চে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখল মালদার চাঁচলের একদল প্রতিভাবান খুদে ক্যারাটে খেলোয়াড় (Chanchal Malda karate success)। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে গত ২ ও ৩ অগাস্ট অনুষ্ঠিত ১০তম ইন্টারন্যাশনাল ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে চাঁচলের ১১ জন প্রতিযোগী সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ—তিনটি পদকই জয় করে নিয়েছে। তাদের এই দুর্দান্ত সাফল্যে চাঁচল তথা সমগ্র মালদা জেলায় খুশির হাওয়া বইছে।
বিশ্বের ১০টি দেশের প্রায় ৮ হাজার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন দেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা প্রতিযোগীদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পিছু হটিয়ে চাঁচলের প্রতিযোগীরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
- সোনার পদক: বিজয়ী হয়েছেন মঞ্জুষা মণ্ডল ও সমৃদ্ধা সাহা।
- রুপোর পদক: অর্জন করেছেন মিমমাইন আকীদাহ, উম্মি সালমা সুলতানা, আবির বিশ্বাস, কুশান ঘোষ ও লিমরাজ।
- ব্রোঞ্জের পদক: ঘরে তুলেছেন নেহা সাহা, নিশা সাহা, অদ্রিজা মণ্ডল ও মৌরি মণ্ডল।
চাঁচলের এই ক্যারাটে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রশিক্ষক রাকিব আলি। তাঁর সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই সুদূর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বড় সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এই বিশেষ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাঁচলের ক্যারাটে প্রশিক্ষক ও প্রতিযোগীদের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে এলাকার ক্যারাটে পরিকাঠামোর উন্নতির দাবি জানানো হয়েছে।
প্রশিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্য, চাঁচলের মতো ছোট জায়গায় প্রতিভার কোনো কমতি নেই, ঘাটতি রয়েছে কেবল উন্নত প্রশিক্ষণকেন্দ্র, আধুনিক সরঞ্জাম এবং পরিকাঠামোর। সরকারিভাবে যদি সামান্য সহযোগিতা এবং সঠিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা যায়, তবে এই খুদেরা আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করতে পারবে। চাঁচলের এই কৃতী খেলোয়াড়দের সাফল্যে এখন গর্বিত গোটা উত্তরবঙ্গ।

