সামসী: বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) কাজ করতে গিয়ে দু’মাস ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন চাঁচলের (Chanchal) এক পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Employee)। অবশেষে সেপটিক ট্যাংক (Septic tank) থেকে উদ্ধার হল ওই শ্রমিকের পচাগলা দেহ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম মুকেশ মণ্ডল (৩০)। বাড়ি চাঁচল-২ ব্লকের ক্ষেমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পরাণপুরে। এক বহুতলের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে মাস ছয়েক আগে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে টানা দু’মাস ধরে কোনও খোঁজ মিলছিল না তাঁর। পরবর্তীতে বেঙ্গালুরুর মুক্কা এলাকায় একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে ওই শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করে সেখানকার পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে মুকেশের এক সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম লক্ষণ। তাঁর বাড়ি রতুয়া এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
নিহত মুকেশের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি শেষবার বাড়িতে ফোন করে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন শীঘ্রই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু তারপর থেকেই আর কোনও খোঁজ মিলছিল না মুকেশের। এরপর তাঁর উদ্বিগ্ন পরিবার সেখানে থাকা অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মুকেশের খোঁজ পাননি। পরবর্তীতে একরকম পরিবারের চাপেই তাঁর সহকর্মীরা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
তবে প্রায় দু’সপ্তাহ আগে বেঙ্গালুরুতে চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্রমিকরা দুর্গন্ধ পান। ট্যাংক খুলতেই ভেসে ওঠে এক মৃতদেহ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ওই দেহটি মুকেশের কি না তা শনাক্ত করার জন্য তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন বেঙ্গালুরুতে ছুটে যায়। আর দেহটিকে দেখতেই সেটি মুকেশের বলে শনাক্ত করেন তাঁরা। এরপর বেঙ্গালুরুতেই মুকেশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে পরিবারের লোকজন বুধবার পরাণপুরে ফিরে আসে।
পরিবারের দাবি, পুলিশের তরফে একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়েছিল। তাতে মুকেশ ও আরেক শ্রমিক লক্ষণকে একসঙ্গে কোথাও যেতে দেখা গিয়েছে। তবে ফেরার সময় লক্ষণকে একাই দেখা গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।
এদিকে, বুধবার ঘটনার খবর পেয়েই পরাণপুরে ছুটে যান মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি। সঙ্গে ছিলেন চাঁচল-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাদল সাহা, সমাজসেবী প্রকাশ মণ্ডল প্রমুখ। এদিন আব্দুর রহিম বক্সি নিহত মুকেশের অসহায় পরিবারকে কিছু আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। এই নৃশংস ঘটনার নিন্দা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।
নিহত মুকেশের স্ত্রী লক্ষ্মী মণ্ডল শোকাহত গলায় বলেন, ‘স্বামীর অবর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে চলবে সংসার? আমি নিশ্চিত যে স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক।’
মুকেশের বাবা ভুদেব মণ্ডল বলেন, ‘ছেলেকে খুন করা হয়েছে। একজনের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে।’
চাঁচল-২ ব্লকের বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘একজন পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার প্রশাসনের তরফে যেসব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা তা সবকিছুই পাবেন।’ মৃতের স্ত্রীর বিধবা ভাতা দ্রুত চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
