ময়নাগুড়ি: চালসা থেকে চ্যাংরাবান্ধা (Chalsa-Changrabandha Highway Growth) পর্যন্ত সড়ককে চার লেন করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই নতুন করে ডিপিআর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএইচআইডিসিএল)। সম্প্রতি জাতীয় সড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের হাত থেকে সড়কটির দায়িত্ব হস্তান্তরের পর গোটা রুটে সার্ভের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সূত্রের ইঙ্গিত, ময়নাগুড়ি শহরের ভেতর দিয়ে না নিয়ে দুর্গাবাড়ি হয়ে সরাসরি চ্যাংরাবান্ধার দিকে সড়কটি সম্প্রসারণ করা হতে পারে। এতে একদিকে ময়নাগুড়ির পুরাতন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য জমি অধিগ্রহণের আশঙ্কায় দুর্গাবাড়ি-চ্যাংরাবান্ধা সড়কপথ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।
এনএইচআইডিসিএল-এর জেনারেল ম্যানেজার রাহুল গুপ্ত বলেছেন, ‘আগেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে এই সড়কটি চওড়া করার বিষয়ে কী প্রস্তাব ছিল তা দেখা হচ্ছে। গোটা বিষয়টি নতুনভাবে সমীক্ষা করা হবে। তার জন্য ডিপিআর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
ওদলাবাড়ি থেকে চালসা গোলাই হয়ে ময়নাগুড়ি বিডিও অফিস মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক। পাশাপাশি, ময়নাগুড়ি ইন্দিরা মোড় থেকে চ্যাংরাবান্ধা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এশিয়ান হাইওয়ে ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর এই সড়ক দুটিকে এনএইচআইডিসিএল-এর হাতে হস্তান্তর করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করা থেকে শুরু করে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ— সব ক্ষেত্রেই এই সড়কের গুরুত্ব রয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে সেবক হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। জলপাইগুড়ি হয়ে ডুয়ার্সে যাতায়াতে প্রতিদিন এই রুটে কিছু পণ্যবাহী ট্রাক, বাস ও ছোট গাড়ি যাতায়াত করে। কিন্তু, গরুমারা ও লাটাগুড়ির সংরক্ষিত জঙ্গলের বিপুল গাছ কেটে ওই এলাকায় চার লেনের হাইওয়ে করার যৌক্তিকতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশপ্রেমীদের বক্তব্য, এই রাস্তায় গাড়ির চাপ এত নয় যে, গোটা রাস্তা চার লেনের করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, এনএইচআইডিসিএল এখনও জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা চওড়া করার রূপরেখা চূড়ান্ত করেনি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত কয়েক বছরে লাটাগুড়ি ও মৌলানিতে রেলওয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণও এই সড়ক সম্প্রসারণের পূর্বপ্রস্তুতিরই অংশ। লাটাগুড়িতে ডাবল লেনের এবং মৌলানিতে ইতিমধ্যেই চার লেনের আরওবি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সড়ক পরিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা পড়ার আশঙ্কা থাকছেই।
দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্ট জানিয়েছেন, সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রথমে চালসা গোলাই থেকে ময়নাগুড়ি বিডিও অফিস মোড় পর্যন্ত এই সড়কটি সম্প্রসারণের কথা ছিল। তবে নতুন করে একেবারে চ্যাংরাবান্ধা পর্যন্ত এই সড়কটি চওড়া হওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে ময়নাগুড়ি পুরাতন বাজারের ভিতর দিয়ে না নিয়ে এই সড়কটিকে ময়নাগুড়ি দুর্গাবাড়ি মোড় দিয়ে ইন্দিরা মোড় হয়ে চ্যাংরাবান্ধা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এতে একদিকে ময়নাগুড়ি পুরাতন বাজারে উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা ব্যবসায়ীরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছেন। অন্যদিকে দুর্গাবাড়ি থেকে ইন্দিরা মোড় হয়ে চ্যাংরাবান্ধাগামী সড়কের পাশে থাকা ব্যবসায়ীরা নতুন করে আতঙ্কিত। এই রাস্তার ধারেই সুব্রত সাহার গালামালের দোকান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছি। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য যদি সরে যেতে হয় তাহলে বেকার হয়ে যেতে হবে।’ রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য উচ্ছেদ হতে হলে পুনর্বাসনের দাবি জানান তাঁর মতো এলাকার বহু ব্যবসায়ী।

