হিন্দু সম্প্রদায় থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম ব্যক্তিদের অনগ্রসর মুসলিম (ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস মুসলিম বা বিসিএম)-এর আওতায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়ছিল তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে বাতিলের রায় দেয় মাদ্রাজ হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টও সেই আদেশ বহাল রাখল।
‘বিসিএম’ নিয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টের রায়ের পরে শীর্ষ আদালতে দ্বারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। যদিও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ বলেছে, ধর্মান্তরের আগের সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে সংরক্ষণের দাবি করা যায় না। দুই বিচারপতির বেঞ্চ মন্তব্য করে, “যে ব্যক্তি হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থা থেকে অ-হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থায় ধর্মান্তরিত হন, তিনি কেবল ধর্মান্তর-পূর্ব অবস্থার সঙ্গে যুক্ত সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ সুবিধার দাবি করতে পারেন না।” উল্লেখ্য, অনুচ্ছেদ ১৬(৪) রাষ্ট্রকে এমন অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের সুযোগ দেয়, যাদের প্রতিনিধিত্ব সরকারি চাকরিতে অপর্যাপ্ত।
২০২৪ সালের মার্চ মাসের রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়, অনগ্রসর শ্রেণি (বিসি), অতি অনগ্রসর শ্রেণি (এমবিসি), ডিনোটিফাইড কমিউনিটি (ডিএনসি) এবং তফসিলি জাতি (এসসি) ভুক্ত যে সকল ব্যক্তি হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন, তাঁরা ‘বিসিএম’ শ্রেণির আওতায় সামাজিক শংসাপত্র (কমিউনিটি সার্টিফিকেট) পাওয়ার যোগ্য। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচাপতিদের বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে ‘দ্য কনস্টিটিউশন (শিডিউলড কাস্টস) অর্ডার, ১৯৫০’ অনুযায়ী কেবল হিন্দু, বৌদ্ধ ও শিখ ধর্মাবলম্বীরাই ‘তফসিলি জাতি’ (এসসি) হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। আদালত আরও বলেছে, হিন্দুধর্মে ফিরে আসার অর্থ এই নয় যে, ধর্মান্তরিত হওয়ার আগের অনগ্রসর মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাগু হবে।
প্রসঙ্গত, মাদুরাই বেঞ্চকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, ধর্মান্তর ঘটলেই বর্ণপ্রথার সঙ্গে যুক্ত সামাজিক ও শিক্ষাগত অসুবিধাগুলো মুছে যায় না। আরও বলা হয়, এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য হল— কেউ ইসলাম গ্রহণ করলেই যাতে তিনি সংরক্ষণের সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা। যদিও শীর্ষ আদালতেও ধোপে টিকল এই যুক্তি।
সর্বশেষ খবর
