উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনি টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। শর্তসাপেক্ষে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta HC Verdict on BJP Paribartan Yatra)। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কর্মসূচি পালন করা গেলেও মানতে হবে একাধিক কড়া নিয়ম। বিশেষ করে জনসমাগম এবং সময়ের ওপর আদালতের এই বিধিনিষেধ বিজেপির সাংগঠনিক পরিকল্পনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আদালতের দেওয়া শর্তাবলী:
আদালত জানিয়েছে, আগামী ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত এই পরিবর্তন যাত্রা করা যাবে। তবে মিছিলে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। একইসঙ্গে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে আদালত। প্রতিদিন বেলা ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তই এই মিছিল করার অনুমতি মিলবে। পাশাপাশি, কর্মসূচিপথে যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে।
সফরসূচিতে রদবদল ও শা-র সফর:
আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বিজেপি (BJP) তাদের কর্মসূচিতে কিছুটা রদবদল ঘটিয়েছে। দোল উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ যাত্রা বন্ধ থাকবে। তাই ১ ও ২ মার্চেই অধিকাংশ বিভাগের উদ্বোধন সেরে ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আগামী ১ মার্চ কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি ও গড়বেতা থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি এবং আমতায় কর্মসূচি রয়েছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-র ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে যাত্রার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
লক্ষ্য ১৪ মার্চের ব্রিগেড:
বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে ৯টিতেই এই পরিবর্তন যাত্রা হবে। একমাত্র কলকাতা মহানগর বিভাগে কোনো যাত্রা হবে না, কারণ এই বিভাগের ওপর দায়িত্ব রয়েছে ১৪ মার্চের মেগা ব্রিগেড সমাবেশ সফল করার। সেখানেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘যোগদান মেলা’র মতো বড় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও, এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমেই জনমত নিজেদের দিকে টানতে চাইছে কেন্দ্রীয় শাসকদল। আগামীদিনে এই যাত্রার হাত ধরেই রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীর আনাগোনা বাড়বে।
