শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে প্রাক্তন বনকর্তার জমি দখল কাণ্ডে এবার শিলিগুড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে(Calcutta excessive court docket) মামলা দায়ের করলেন প্রাক্তন প্রধান মুখ্য বনপাল গোপীনাথ রায়। এসিপি অফিসের ক্যাম্পাসের একপাশে থাকা ব্যক্তিগত জমি দখল কাণ্ডে নিম্ন আদালতের নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ তাঁর। নিম্ন আদালত ওই জমি নিয়ে এলাকায় শান্তিরক্ষায় ইনজাংশন জারি করে পুলিশকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশিকা দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় থানা সহ পুলিশের কর্তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাই শিলিগুড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে(Calcutta excessive court docket) রিট ফাইল করেছেন তিনি। পাশাপাশি শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শিলিগুড়ি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ সিংকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য মেলেনি।
এদিকে, এরই মাঝে দখলকারীরা ওই প্রাক্তন বনকর্তার জমি সহ পাশের যতগুলি জমি রয়েছে, সবটাই দখল করার ছক কষে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে জমির এলআর শিটে নাম বদলের আবেদন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ফোন নম্বরে এই সংক্রান্ত মেসেজও এসেছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে একাধিকবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, বিশেষ করে এনজেপি থানা এলাকায় জমি মাফিয়াদের দাপট নিয়ে পুলিশকে ধমকেছেন। এরপরেও কেন পুলিশ আদালতের নির্দেশিকাও এড়িয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রাক্তন আইএফএস গোপীনাথ রায়ের দাবি, পুলিশ কোনও এক অজানা শক্তির ‘মৌখিক নির্দেশে’ তাঁর জমিতে কাজ বন্ধ করতে চলে এসেছিল। কার মৌখিক নির্দেশিকায় পুলিশ গিয়ে ব্যক্তিগত জমিতে কাজ বন্ধ করাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গোপীনাথের বক্তব্য, ‘কোনও এক অজানা শক্তির নির্দেশে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে না। আদালতের নির্দেশিকাও মানতে চাইছে না। তাই আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।’
শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড় সংলগ্ন এলাকায় এসিপি (পূর্ব-২)-এর দপ্তরের প্রাঙ্গণে প্রায় সাড়ে ১৮ কাঠা জমি প্রাক্তন বনকর্তা, তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের নামে রয়েছে। ২০১৭ সালে অতিরিক্ত জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি হয়েছিল। এরপর জমি ঘিরে দিয়ে সেখানে গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ওই জমি তিনি একটি গাড়ির সার্ভিসিং সেন্টার তৈরির জন্য ভাড়ায় দেন। ভাড়া নেওয়া সংস্থা কাজও শুরু করে দেয়। গত মাসে এনজেপি থানার পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলে। জমির মালিককে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে থানায় দেখা করতে বলা হয়। সেইমতো থানায় সমস্ত কাগজ জমা করে আসেন তিনি। দু’দিন বাদে জানানো হবে বললেও কোনও খবর না মেলায় গোপীনাথ নিজেই যান খোঁজ করতে। সেখান থেকে তাঁকে প্রথমে এসিপি অফিসে পরবর্তীতে ডিসিপির সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। গোপীনাথের দাবি, সেখানে তাঁকে মৌখিক নির্দেশিকার ভিত্তিতে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। এরপরেই জলপাইগুড়ির জুনিয়ার ডিভিশন আদালত থেকে ওই জমির ওপর ইনজাংশন নেন তিনি। এদিকে, অভিযুক্তরা ওই জমিতে নিজেদের একাধিক তেলের ট্যাংকার রেখে দিয়েছে। পুলিশ সেই ট্যাংকারগুলি সরানোর জন্যও বলছে না।
