স্বরূপ বিশ্বাস, কলকাতা: নেতাজির নামে সংগ্রহশালা (Buxa Fort Netaji Museum Controversy)। স্থান আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার ঐতিহাসিক বক্সা দুর্গে। সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। এজন্য বরাদ্দ হবে ১০০ কোটি টাকা। বক্সা দুর্গে ব্রিটিশ ভারতে ছিল বন্দিনিবাস। যেখানে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীকে বন্দি রাখা হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পের ওই এলাকায় প্রস্তাবিত সংগ্রহশালায় স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায় ও সংগ্রামীদের বীরগাথা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) ঘিরে কুকথা, অশোভন মন্তব্যের ঝড় উঠেছিল। যাতে বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা-কর্মীর নাম জড়িয়ে পড়েছিল। এনিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকার ড্যামেজ কন্ট্রোলে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায়ের বঙ্গভূষণ সম্মান কেড়ে নেয়। তাতে অবশ্য নেতাজি আবেগে ক্ষতের প্রলেপ পড়েিন।
মনে করা হচ্ছে, সেই কারণে বক্সা দুর্গে নেতাজির নামে সংগ্রহশালা তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। বুধবার রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। বক্সা দুর্গ যে এলাকার মধ্যে পড়ে, সেই কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ মন্ত্রীসভার সমস্ত সদস্য তৎক্ষণাৎ ওই প্রস্তাবে সিলমোহর দেন।
তাতে অবশ্য বিতর্কে লাগাম পড়েনি। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওই দুর্গের একটি সেলে বন্দি ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। সেই সেল সংরক্ষণে সুসজ্জিত শ্রদ্ধা-গ্যালারি তৈরি করা হবে বলা হচ্ছে। কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্যে বক্সায় নেতাজির বন্দি থাকার কোনও রেকর্ড নেই। শুধু তাই নয়, সুভাষ ১৯৩৭-এ জলপাইগুড়ি শহরে প্রাদেশিক কংগ্রেস সম্মেলনে এলেও আলিপুরদুয়ার বা বক্সায় কখনও যাননি।
ফলে তাঁর নামে বক্সায় সংগ্রহশালা তৈরির প্রস্তাবেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের প্রবীণ গান্ধিবাদী গবেষক পরিমল দে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘যদি বলা হয়ে থাকে যে, বক্সায় নেতাজি বন্দি ছিলেন, তাহলে তা ইতিহাসের বিকৃতি। তিনি কখনও বক্সায় ছিলেন না। তাঁর সেল বলে যদি কোনও ঘর চিহ্নিত করা থাকে, তাহলেও তার কোনও ঐতিহাসিক বাস্তবতা নেই।’
চর্চা শুরু হয়েছে, নেতাজিকে ঘিরে রাজ্যবাসীর জাতীয়তাবাদী আবেগকে ছোঁয়ার লক্ষ্যে তড়িঘড়ি এই মেগা প্রকল্পের ঘোষণা। তা করতে গিয়ে ইতিহাস গবেষণাও করা হয়নি। গান্ধি গবেষকের মতে, বক্সায় নেতাজির নামে সংগ্রহশালা হতেই পারে। কিন্তু নেতাজি সেখানে বন্দি ছিলেন বলার সঙ্গে সত্যের সম্পর্ক নেই।

