বক্সিরহাট: নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই পাচার রোধে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই দিনই অসম-বাংলা সীমানায় পাচারের বড়সড় ছক বানচাল করল কোচবিহার জেলা বন দপ্তর। সোমবার সকালে তুফানগঞ্জ-২ (Tufanganj) ব্লকের সংকোশ এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ কিউবিক ফুট (সিএফটি) ‘বার্মা টিক’ (Burma Teak Smuggling) বা মায়ানমারের সেগুন কাঠ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
বন দপ্তর সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আটিয়ামোচর বিট অফিসার পাঞ্চালি রায়ের নেতৃত্বে বনকর্মীরা নাজিরান দেওতিখাতা সংকোশ নাকা চেকিং পয়েন্টে একটি পণ্যবাহী লরি আটক করেন। লরিটিতে পুরনো লোহার টিন বা স্ক্যাব বোঝাই ছিল। চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পুরনো লোহা পরিবহণের কথা জানান। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি চালাতেই দেখা যায়, টিনের আড়ালে থরে থরে সাজানো রয়েছে উন্নত মানের বার্মা টিক কাঠ। পাচারের অভিনব এই কৌশল দেখে চক্ষু চড়কগাছ বনকর্মীদের।
জেলা বন বিভাগের এডিএফও বিজন কুমার নাথ জানান, রাজস্ব ফাঁকি দিতেই এই কায়দায় অসম থেকে ভিন রাজ্যে কাঠ পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল। তল্লাশির সময় লরির চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও লরিটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। লরি নম্বরের সূত্র ধরে মালিকের খোঁজ চলছে এবং নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ অফিসার রানা রহমান সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, সাধারণত অসম-বাংলা সীমানা (Assam-Bengal Border), দিয়ে গোরু, কয়লা বা মদের পাচারের খবর পাওয়া গেলেও বার্মা টিক পাচারের ঘটনা এই প্রথম প্রকাশ্যে এল। অত্যন্ত দামী এই কাঠ দক্ষিণ ভারতে আসবাবপত্র তৈরির জন্য পাচার করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান বন দপ্তরের।
