Burdwan | পুকুর পাড়ে বাইক, জলে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের দেহ, খুন নাকি দুর্ঘটনা? ধোঁয়াশায় পুলিশ

Burdwan | পুকুর পাড়ে বাইক, জলে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের দেহ, খুন নাকি দুর্ঘটনা? ধোঁয়াশায় পুলিশ

শিক্ষা
Spread the love


বর্ধমানঃ সারাদিন খোঁজ না মেলা তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের মৃতদেহ মিললো বাড়ির অদূরে রাস্তার ধারের নির্জন কলা বাগান ঘেরা জায়গার  একটি পুকুরে। সেই পুকুরের পাশেই পড়েছিল পঞ্চায়েত সদস্য শুভেন্দু মালিকের বাইকটি। আর তাঁর পায়ের চপ্পল জোড়া একেবারে গুছিয়ে  রাখা ছিল পুকুরের পাড়ে। রবিবার সকালে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের ইটলা গ্রামে তুমুল আলোড়ন পড়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় বর্ধমান হাসপাতালে। পুলিশ মৃত তৃণমূল নেতার বাইকটি তদন্তের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করেছে। খুন নাকি নিছকই দুর্ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী শুভেন্দু মালিক জামালপুর ব্লকের পাড়াতল ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। তাঁর বাড়ি এই পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাহাদুরপুর গ্রামে। স্থানীয় পারুল গ্রামের ১১৪ নম্বর বুথের সদস্য ছিলেন শুভেন্দু। তিনি ধান কেনা বেচা করতেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। বর্তমানে বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা, মা, স্ত্রী এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এক ছেলে রয়েছে।

পরিবার সদস্যদের কথায় জানা গিয়েছে, শুভেন্দু মালিক ওরফে হাবল শনিবার দুপুরে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তারপর দুপুর থেকে রাত গড়িয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বাড়ির লোকজন এবং পরিচিতরা বহুবার ফোন করেন শুভেন্দুর মোবাইলে। কিন্তু ফোন সুইচ অফ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। রবিবার সকালে থানায় গিয়ে শুভেন্দুর নিখোঁজ হয়ে থাকার বিষয়টি পুলিশকে জানাবেন বলে পরিবার সদস্যরা ঠিক করে নেন। কিন্তু সকাল হতেই শুভেন্দুর মর্মান্তিক পরিণতির কথা জানতে পারেন পরিবার সদস্যরা। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পুকুর থেকে শুভেন্দু মালিকের দেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়েই আঁতকে ওঠেন পরিবার সদস্যরা। পুকুর পাড়ে পৌঁছে শুভেন্দুর মৃতদেহ চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা।

দলের পঞ্চায়েত সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খাঁন। তিনি বলেন, “কী করে এমন ঘটনা ঘটল তার কিছুই আমি বুঝে উঠতে পারছি না। গোটা ঘটনাই রহস্যে মোড়া।” পুলিশকে যথাযথ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন বলে মেহেমুদ খাঁন।

মৃতের শ্যালক সুপ্রিয় দাস তাঁর জামাইবাবুর মৃত্যুর কারণ দুর্ঘটনা বলে মানতে পারেননি। তাঁর প্রশ্ন দুর্ঘটনাই যদি ঘটে তাহলে তাঁর জামাইবাবুর পায়ের চপ্পল জোড়া অত গুছানো অবস্থায় পুকুর পাড়ে পড়ে থাকলো কি করে? সুপ্রিয় খুনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *