উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ব্রিগেডের মঞ্চে এবার আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানা (Brigade Parade Floor)। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের (Dakshineshwar Temple Theme) আদলে তৈরি ১২০ ফুট চওড়া মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লক্ষ্য একটাই— বিজেপি যে বাংলার সংস্কৃতির বিরোধী নয়, তা প্রমাণ করা। তবে বিজেপির এই ‘সংস্কৃতি প্রেম’কে ‘থিম পুজো’র মণ্ডপ বলে খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস।
বিজেপি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সভার মূল মঞ্চটি দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দিরের অবিকল প্রতিরূপে সাজানো হয়েছে। শুধু মন্দির নয়, মঞ্চের দু’ধারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা, পটচিত্র থেকে শুরু করে বাউল ও কীর্তনের মতো বাংলার নিজস্ব শিল্পকলা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বঙ্গ বিজেপির নতুন জমানায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে ‘জয় মা কালী’ বা ‘জয় মা দুর্গা’র মতো আবেগ। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী তাঁর খোলা চিঠিতেও মা কালীকে স্মরণ করেছেন।
বিজেপির এই সাজসজ্জাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, “ওটা রাজনৈতিক মঞ্চ না কি থিমপুজো? দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে থিম করতে চাওয়া বিজেপিকে মনে করিয়ে দিই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের টিকিট কাউন্টারটি ভবতারিণী মন্দিরের আদলেই তৈরি করেছিলেন।” তৃণমূলের দাবি, এসব করেও বাংলার মানুষের মন জয় করতে পারবে না গেরুয়া শিবির।
শনিবার দুপুরে একই প্রাঙ্গণে সরকারি ও রাজনৈতিক— দুটি পৃথক কর্মসূচি রয়েছে মোদির। সরকারি মঞ্চ থেকে ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি। এরপর পাশের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুরু হবে মেগা র্যালি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল সরকারকে কোন পথে আক্রমণ করেন এবং উত্তরবঙ্গের জন্য কোনও বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
