অরুণ ঝা, ইসলামপুর: অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠল বিজেপি যুব মোর্চার উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলা সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় ইসলামপুর থানায়। আইসি হীরক বিশ্বাস জানিয়েছেন, শুভদীপের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। তবে, তিনি পলাতক। পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এদিনই সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শুভদীপকে দল থেকে বহিষ্কার সংক্রান্ত নোটিশ পাঠায় দলের জেলা নেতৃত্ব। রাজনৈতিক তর্জাও শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধীর মধ্যে। দোষীর কঠোর সাজার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই ছাত্রীর পরিবার। নির্যাতিতার বাবা এ বিষয়ে বেশি কথা বলতে চাইছেন না। তবে ফোনে উত্তরবঙ্গ সংবাদকে বলেন, ‘কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা আইন হাতে তুলে নিইনি। বিচারের আশায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। কঠোর শাস্তি চাই। এই মুহূর্তে আর কিছু বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই আমি।’
অভিযুক্ত পেশায় স্কুল শিক্ষক। নাবালিকার বাড়িতে অভিযুক্ত টিউশন পড়াতে আসতেন। সম্প্রতি তাকে নিজের বাড়িতে পড়া বোঝানোর অজুহাতে ডাকেন তিনি। অভিযোগ, সেসময় শুভদীপ এই ঘটনা ঘটান। দিনকয়েক আগে ছাত্রীর কথাবার্তা, আচরণে অভিভাবকদের সন্দেহ হয়। তারপর নানা প্রশ্ন করতেই নাবালিকা সবটা খুলে বলে। এরপরই তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রায় বছরখানেক আগে এক শিক্ষিকার গায়ে হাত তোলার অভিযোগও উঠেছিল শুভদীপের বিরুদ্ধে। সেসময় অবশ্য ইস্যুটি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হয়। পদ্ম নেতারা সেই ঘটনার কথা এদিন স্বীকারও করেছেন।
প্রশ্ন উঠছে, তারপরেও কেন অভিযুক্তকে সাংগঠনিক পদে বহাল রাখা হল এতদিন? বহিষ্কারপত্রে তারিখ হিসেবে ২৬ ডিসেম্বর উল্লেখ থাকলেও এদিন এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই কেন সেটা সমাজমাধ্যমে দেওয়া হল? তবে কি পুরোটাই মুখ রক্ষার কৌশল? দলের জেলা সহ সভাপতি সুরজিৎ সেনের অবশ্য দাবি, ‘নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষিকার গায়ে হাত তোলা নিয়ে শুভদীপের বিরুদ্ধে দলীয় তদন্ত চলছিল। দলবিরোধী অন্যান্য কাজের জন্য গত বছর ডিসেম্বরের ২৬ তারিখ তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তাঁর কঠোর সাজা হওয়া উচিত।’ কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির স্লোগান, বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও। কিন্তু বাস্তবে দলেরই যুব নেতার কাছে টিউশন পড়তে গিয়ে একজন নাবালিকার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হল। দ্রুত ওকে পাকড়াও করতে হবে।’
সাতদিন পর কেন বহিষ্কারের চিঠি প্রকাশ্যে আনা হল? সুরজিতের দাবি, ‘চেপে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মেনে যথাসময়ে আমরা দিয়েছি গ্রুপে।’ দল নির্যাতিতা ও তার পরিবারের পাশে আছে বলে জানালেন তিনি।
