Bridge Situation | প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছে টিটিয়া নদী! ৯ বছর পেরিয়েও অধরা সেতু

Bridge Situation | প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছে টিটিয়া নদী! ৯ বছর পেরিয়েও অধরা সেতু

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


মহম্মদ আশরাফুল হক, চাকুলিয়া: নির্বাচনের দামামা বাজলেই রাজনীতির কারবারিরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটান। কিন্তু ভোট মিটলেই সেই সব প্রতিশ্রুতি নদীর জলেই যেন ভেসে যায়। চাকুলিয়ার টিটিয়া নদীর ওপর একটি সেতুর (Bridge Situation) জন্য দীর্ঘ নয় বছর ধরে পথ চেয়ে বসে রয়েছেন ভুঁইধর ও ঘোরধাপ্পা এলাকার হাজার হাজার মানুষ। নেতাদের দেওয়া আশ্বাসের পাহাড় জমেছে। তবে আজও তাঁদের ভোগান্তির কোনও সুরাহা হয়নি।

চাকুলিয়া (Chakulia) গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুঁইধর ও ঘোরধাপ্পা এলাকার বুক চিরে বয়ে গিয়েছে টিটিয়া নদী। বাম আমলে নদীর ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ফলে বিনারদহ, সাটিয়ারা, নিজামপুর, বেলবাড়ি, কাহাটার মতো এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হয়েছিল। কৃষকরা ফসল নিয়ে বাজারে যেতে পারতেন, পড়ুয়ারা নিয়মিত স্কুলে যেত। কিন্তু ২০১৭ সালের বিধ্বংসী বন্যায় সেই কালভার্টটি ধসে পড়ে। তারপর থেকে নয় বছর কেটে গেলেও সেখানে নতুন কোনও সেতু তৈরি হয়নি। বর্ষাকালে নদী পারাপার কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাসিন্দারা হয় নৌকায় চড়েন, নয়তো অনেকটা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছান।

ভুঁইধরের বাসিন্দা তফিজুল হক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেক নির্বাচনে নেতারা এসে সেতুর কথা বলেন। ভোট পেলে আর খোঁজ নেন না। আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল মিস করে, ফসল নষ্ট হয়, রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না। এই অবহেলা আর কতদিন চলবে?’ একই সুর শোনা গেল ঘোরধাপ্পা এলাকার বাসিন্দা পিন্টু বর্মনের গলায়। তিনি বলেন, ‘বাম আমলে অন্তত কালভার্ট ছিল। এখন এই সরকারের আমলে কোনও পরিবর্তন হয়নি। আমরা বহুবার পঞ্চায়েতে আবেদন করেছি, স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কোনও সাড়া নেই।’

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য হবিবুর রহমান অবশ্য দায় চাপাচ্ছেন ওপরতলার দিকে। তাঁর কথায়, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। কিন্তু অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না।’

এদিকে, এই সেতু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আলি ইমরান রমজ ওরফে ভিক্টর বলেন, ‘সাধারণ মানুষের আবেদন নিবেদনকে গুরুত্ব দেয়নি তৃণমূল সরকার।’ পালটা যুক্তি দিয়েছেন বর্তমান বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদ। তাঁর দাবি, ‘টিটিয়া নদীর ওপর কালভার্ট নয় সেতুর দরকার। সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। সবুজ সংকেত পেলে কাজ শুরু করা হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *