উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সাক্ষী হলো। সম্মেলনের আবহ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সদস্য রাষ্ট্র ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রী খলিফা শহিন আল মারার প্রকাশ্য বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের এই সংঘাতে আয়োজক দেশ হিসেবে নয়াদিল্লি অস্বস্তিতে পড়লেও, শেষপর্যন্ত রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন-ইজরায়েল বাহিনীর সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং এর জেরে আমিরশাহিতে হওয়া ড্রোন হামলার রেশ ধরেই এই তিক্ততা।
দুই বিবদমান দেশের প্রতিনিধিদের পাশে নিয়েই হরমুজ় প্রণালী (Hormuz Strait) ও লোহিত সাগরের (Purple Sea Disaster) নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অনড় অবস্থানের কথা জানান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। সম্প্রতি ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবির ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাধাহীন যাতায়াত এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্বের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে জয়শঙ্কর ‘অভূতপূর্ব ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা’র মোকাবিলায় ব্রিকস সদস্যদের বাস্তবসম্মত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাস ছিল তিনটি। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে অন্যের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা। দুই- যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব। আর তিন নম্বর হল, হরমুজ় ও লোহিত সাগরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোটে ২০২৪ সালে যোগ দেয় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ২০২৫ সালে যুক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। তবে নতুন সদস্যদের পারস্পরিক বৈরিতা জোটের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়া সংকট নিয়ে ব্রিকস কোনো ঐক্যবদ্ধ ইস্তাহার দিতে না পারলেও, ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
ভারতের এই কড়া বার্তা মূলত পশ্চিম এশিয়ায় সক্রিয় সকল শক্তির প্রতি এক প্রচ্ছন্ন সতর্কতা, যেখানে লোহিত সাগরে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নৌ-নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
