Brazil vs Haiti | ভিনি-ঝলকে হাইতি বধ, স্বস্তির জয়ের মাঝেও ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ

Brazil vs Haiti | ভিনি-ঝলকে হাইতি বধ, স্বস্তির জয়ের মাঝেও ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভিনি, ভিদি, ভিসি। এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। অবশেষে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের (Vinicius Junior) ম্যাজিকেই বিশ্বকাপে স্বস্তির প্রথম জয় পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘সি’ থেকে মূল্যবান ৩ পয়েন্ট তুলে নিল সেলেকাওরা (Selecao)। তবে স্কোরবোর্ড যাই বলুক না কেন, কার্লো আনচেলোত্তির (Carlo Ancelotti) শিষ্যরা মাঠের ফুটবলটা যেভাবে খেললেন, তাতে জয়ের আনন্দের মাঝেও কিছু অস্বস্তির প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মরক্কোর সাথে আগের ম্যাচে ড্র করার পর, ফিলাডেলফিয়ায় দুর্বল হাইতির মুখোমুখি হওয়ার আগে ভালোই চাপে ছিল কাসেমিরো বাহিনী। এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকেই ‘ছোট’ দলগুলোর চমক জাগানো পারফরম্যান্স সেই ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। মোহনবাগানের প্রাক্তন তারকা সোনি নর্ডির দেশ হাইতিও তেমন কিছু করে বসবে না তো?—এমন একটা শঙ্কা ম্যাচের আগে ছিল। স্যামুয়েল মিগনের প্রশিক্ষণাধীন ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটি শুরু থেকে উজ্জীবিত ফুটবলই খেলেছে। তারা কোনো ‘পার্ক দ্য বাস’ ডিফেন্স করেনি, বরং ব্রাজিলের রক্ষণে হানা দিয়ে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছে।

শুরুর ১০ মিনিট প্রতিপক্ষকে দেখে নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ঘন নীল ও সমুদ্র-সবুজ জার্সিতে নামা সেলেকাওদের ফুটবলীয় দক্ষতার সামনে ধীরে ধীরে হাইতির জোনাল মার্কিং ভেঙে পড়ে। ম্যাচের ২৩ মিনিটে জাদুর টুপি থেকে প্রথম খরগোশটি বের করেন ভিনিসিয়াস। বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে নেওয়া তাঁর জোরালো শট হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিড প্রতিহত করতে গেলে ডিফেন্ডার হানেস ডেলক্রোইক্সের পায়ে লেগে প্রায় আত্মঘাতী হতে যাচ্ছিল। সেখান থেকে বল পেয়ে ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ভুল করেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার ম্যাথিয়াস কুনহা।

৩৬ মিনিটে আবার সেই ভিনি-কুনহা জুটি। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে ভিনিসিয়াসের বাড়ানো রক্ষণ চেরা পাস ধরে, ডিফেন্ডারকে গায়ে লাগিয়ে চমৎকার বাঁ পায়ের শটে দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কুনহা। আর প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠ থেকে লুকাস পাকেতার চোখধাঁধানো থ্রু পাস ধরে গতিতে রক্ষণকে পরাস্ত করে হাইতি কিপারের পায়ের তলা দিয়ে অনায়াসে বল জালে জড়ান ভিনিসিয়াস নিজে।

প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর গ্যালারিতে যখন রোনালদিনহোরা উপস্থিত, তখন দ্বিতীয় অর্ধে আরও গোলবন্যার আশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভিনিসিয়াস কিছুটা ম্যাচ থেকে হারিয়ে যেতেই খেই হারিয়ে ফেলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে বারবার চাপ বাড়ায় হাইতি। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে প্রায় গোলই করে ফেলেছিল তারা, কিন্তু গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের তৎপরতায় সে যাত্রা রক্ষা পায় ব্রাজিল।

অন্যদিকে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা মেতেছিলেন গোল মিসের মহড়ায়। ২২ মিনিটে গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি রাফিনহা। দ্বিতীয়ার্ধে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট বারে লাগে, ডগলাস স্যান্টোসের সহজ সুযোগ আকাশে ওড়ে এবং অফসাইডের কারণে এনদ্রিকের গোল বাতিল হয়। ম্যাচের শুরুতেও ১২ মিনিটে রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের ফাঁদে নষ্ট হয়েছিল।

সহজ জয়ের এই রাতে ব্রাজিলের বড় ধাক্কা রাফিনহার চোট। বার্সেলোনার হয়ে মরশুমের শেষে চোটে ভোগা এই তারকা পেশির টানের কারণে মাত্র ৪০ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। তার আগে ইতালীয় কোচ আনচেলোত্তির ডায়েরিতে একগাদা প্রশ্ন: রাফিনহার বিকল্প কে হবেন? অতিমাত্রায় ভিনিসিয়াস-নির্ভরতা কীভাবে কমবে? ফরোয়ার্ডদের গোল মিসের ও অফসাইডের ফাঁদে পড়ার প্রবণতাই বা কীভাবে দূর হবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— নেইমার জুনিয়র কবে ফিরবেন? হাইতির মতো ৮৫ নম্বর র‍্যাংকিংয়ের দলের বিরুদ্ধে এই চেনা ছন্দের ফুটবল চললেও; স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা বা পর্তুগালের মতো হেভিওয়েটদের বিপক্ষে এই ফুটবল যে যথেষ্ট নয়, তা ভালোই বুঝতে পারছে সেলেকাও শিবির।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *