উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় চলচ্চিত্রের মুকুটে নয়া পালক। ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস বা বাফটা (BAFTA)-র ৭৯তম আসরে সেরা ‘চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’-এর শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ল মণিপুরি ছবি ‘বুং’ (Boong)। লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী (Lakshmipriya Devi) পরিচালিত এই ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে ‘জুট্রোপলিস ২’ বা ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এর মতো দাপুটে ছবিকে টক্কর দিয়ে এই সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছে। মণিপুরের এই সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ।
প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা
এই ঐতিহাসিক সাফল্যে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ (X) অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, “এই ছবির সঙ্গে যুক্ত সকলকে জানাই হার্দিক অভিনন্দন। এটি বিশেষ করে মণিপুরের জন্য অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত। আমাদের দেশের বিশাল সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় ফুটে উঠেছে এই অর্জনে।”
‘সমরে’ ছিল বিশ্বখ্যাত সব নাম
বাফটার লড়াইটা সহজ ছিল না। সেরা হওয়ার দৌড়ে ‘বুং’-এর সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিল ‘আর্কো’ (Arco), ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ (Lilo & Sew) এবং ডিজনির মেগা অ্যানিমেশন ‘জুট্রোপলিস ২’ (Zootropolis 2)-এর মতো সিনেমা। কিন্তু মণিপুরি ছবির মানবিক আবেদন এবং গল্পের বুনোট বিচারকদের মন জয় করে নেয়।
ছবির প্রেক্ষাপট ও কাহিনি
লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন গুগুন কিপগেন, বালা হিজাম, বিক্রম কোচর-সহ একাধিক দক্ষ শিল্পী। মণিপুরের বর্তমান সামাজিক অস্থিরতার মাঝে একটি ছোট ছেলের তার পরিবারকে এক করার লড়াই এবং সফরই এই ছবির মূল উপজীব্য। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (TIFF) প্রথম প্রদর্শিত হয়েই ছবিটি সমালোচকদের নজর কেড়েছিল।
পুরস্কার মঞ্চে লক্ষ্মীপ্রিয়ার আবেগঘন বার্তা
বাফটার মঞ্চে পুরস্কার গ্রহণ করার সময় পরিচালক লক্সমপ্রিয়া দেবীর বক্তব্যে মণিপুরের পরিস্থিতি এবং নিজের ভিটের প্রতি টান ফুটে ওঠে। ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি অভিবাদন ‘কুরুমজারি’ (Kurumjari) দিয়ে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন:”এটি আমার জন্মভূমি মণিপুরের প্রতি এক বিনম্র শ্রদ্ধা। ভারতের এই অঞ্চলটি বর্তমানে অশান্ত এবং অনেক সময় অবহেলিত ও প্রতিনিধিত্বহীন থেকে যায়। আমি শুধু এই মঞ্চ থেকে প্রার্থনা করছি যেন আমার জন্মভূমি মণিপুরে আবার শান্তি ফিরে আসে।” তিনি আরও জানান, এই দীর্ঘ পথ চলাটি যেন কোনো এক পর্বত জয়ের মতো, যার শিখরে পৌঁছানোর স্বপ্ন তাঁরা দেখেছিলেন। বাফটা এবং জুরি মেম্বারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি মণিপুরের সাধারণ মানুষের জন্য এই জয় উৎসর্গ করেন।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক সিনেমা যে বিশ্বমানের হয়ে উঠেছে, ‘বুং’-এর এই স্বীকৃতি তারই প্রমাণ। অশান্ত মণিপুরের ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে এই পুরস্কার যেন এক চিলতে শান্তির প্রলেপ বুলিয়ে দিল।
