উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা’ (SIR) কি প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে? বাঁকুড়ার রানিবাঁধে এক বুথ স্তরের আধিকারিকের আত্মহত্যার (BLO suicide) ঘটনা এই প্রশ্নকেই ফের উসকে দিল। এদিন স্কুলের ক্লাসরুম থেকে উদ্ধার হল প্রধান শিক্ষক তথা বিএলও হারাধন মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে স্পষ্ট উল্লেখ— “আমি আর চাপ নিতে পারছি না।”
ঘটনার বিবরণ
মৃত হারাধন মণ্ডল রাজাকাটা মাঝেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রানিবাঁধের ২০৬ নম্বর বুথের বিএলও-র দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ ভোটারদের নথিপত্র সংগ্রহের নাম করে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে দেখা যায়, নিজের স্কুলেরই একটি ক্লাসরুমে সিলিং ফ্যান থেকে তাঁর দেহ ঝুলছে।
সুইসাইড নোটের হাহাকার
দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নোটে অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, বিএলও কাজের অতিরিক্ত চাপ তিনি আর নিতে পারছেন না। নিজের ছেলেকে কোনো কাজ করতে না দিয়ে সব দায়িত্ব একা পালন করার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “সব ঠিক করেও ভুল করলাম। ক্ষমা করো আমাকে।”
রাজ্যে পঞ্চম মৃত্যু: কাঠগড়ায় কমিশন
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যে এই নিয়ে মোট ৫ জন বিএলও-র মৃত্যু হল।
1. নমিতা হাঁসদা (পূর্ব বর্ধমান): ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু।
2. শান্তিমুনি ওঁরাও (জলপাইগুড়ি): আত্মঘাতী।
3. রিঙ্কু তরফদার (নদিয়া): আত্মঘাতী।
4. জাকির হোসেন (মুর্শিদাবাদ): হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।
5. হারাধন মণ্ডল (বাঁকুড়া): সর্বশেষ সংযোজন।
রাজনৈতিক তরজা
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, কমিশনের “অপরিকল্পিত এবং জটিল” পদ্ধতির কারণেই মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা চরম মানসিক অবসাদে ভুগছেন। ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং শুনানির এই প্রক্রিয়াটি আরও সহজতর হতে পারত বলে সরব হয়েছেন তিনি।
রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চললেও, একের পর এক কর্মীর মৃত্যু প্রশাসনের অন্দরেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কর্মীদের ওপর কাজের বোঝা কমানোর দাবিও এখন জোরালো হচ্ছে।
