উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশের রাজনীতি এখন পুরোপুরি উত্তপ্ত। বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভ ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi)। বিরোধিতার জেরে এবার বিজেপির শীর্ষ নেতা অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur) রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা অত্যন্ত অরাজক আচরণ করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গুরুতর অভিযোগ তুললেও তার স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ জমা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। মতপার্থক্যের অধিকার সবারই রয়েছে, তবে অন্ধ অভিযোগের পেছনে শক্ত প্রমাণ থাকা আবশ্যক বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, ভোট চুরির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরজা সব নাগরিকের জন্যই খোলা রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে এক বিশাল পদযাত্রা করেন। পদযাত্রায় যোগ দেন রাহুল গান্ধি, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়ংকা গান্ধি, আইসা নেত্রী নেহা বোরা। মাঝপথে সেই সুপ্রিম কোর্ট অভিযান পুলিশ আটকে দিলেও পরে রাহুলরা শীর্ষ আদালতে পৌঁছে যান।
বিরোধীদের এই আন্দোলনকে কটাক্ষ করে অনুরাগ ঠাকুর অভিযোগ করেন যে, আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার অসৎ চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। আইনি পথ খোলা থাকলেও কংগ্রেস দল নিজেদের সংবিধান, আইন ও নিয়মের ঊর্ধ্বে বলে মনে করে। শুধু তাই নয়, ১৯৮৯ সালের একটি নির্বাচনে বুথ দখলের পুরোনো ঘটনার কথা টেনে এনে তিনি দাবি করেন যে, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো নৈতিক অধিকারই এই প্রাচীন দলের নেই। নিজের দলের ধারাবাহিক নির্বাচনী ব্যর্থতার সমস্ত দায় ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নিরপেক্ষ ব্যবস্থার ওপর চাপানো কংগ্রেসের পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিবাদের নামে বিরোধী নেতাদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি সাংসদ। তিনি অভিযোগ করেন যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, রাহুল গান্ধি এবং তাদের সমর্থক কর্মীরা আন্দোলনের নামে যেভাবে পুলিশ কর্মী ও নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন, তার ভিডিও প্রমাণ দেশবাসী পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে। কংগ্রেসের পুরনো স্লোগান ‘লড়কি হুঁ, লড় সাকতি হুঁ’ এখন পাল্টে গিয়ে যেন ‘মহিলাও কো মার সাকতি হুঁ’-তে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে বিজেপির এসব অভিযোগের বিপরীতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে, সোমবার রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের (Election Fee) শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত, সংবিধানের সুরক্ষা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এবং গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না। নিজের বিক্ষোভের কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না দাবি করে তিনি এটিকে মহাদেবের ‘তাণ্ডব’-এর মতো স্বতঃস্ফূর্ত ও তাৎক্ষণিক আন্দোলন বলে অভিহিত করেন। তাঁর ভাষায়, হিন্দুস্তান পরিকল্পনা মেপে প্রতিরোধ গড়ে তোলে না, হিন্দুস্তান প্রতিরোধ করে মন ও হৃদয়ের জোর দিয়ে—আর এই প্রতিরোধ জারি রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে অবিরাম চলতেই থাকবে।

