বর্ধমান: দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। এবার তোলাবাজি, নিয়মভঙ্গ ও দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার দুই বিজেপি নেতা—সঞ্জয় দাস এবং প্রধানচন্দ্র পালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজ্য শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রধান প্রতাপ ব্যানার্জী সোমবার এই দুই নেতাকে শোকজ চিঠিও পাঠিয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (BJP Leaders Suspended)।
জামালপুর ১ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের নির্দেশ অমান্য করে সমাজবিরোধীদের দলে যোগদান করানো, অসামাজিক কাজে মদত দেওয়া এবং দলীয় সংবিধান বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বোমা-কাণ্ডে ধৃত এক সিপিএম দম্পতিকে বিজেপিতে আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে দলীয় মহিলা কর্মীদের হেনস্থা ও অসুস্থ কর্মীকে মারধর করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া দামোদরের বালি খাদান কেন্দ্রিক তোলাবাজি ও তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কয়েকদিন আগে এই সমস্ত অপকর্মের প্রতিবাদে জামালপুর থানায় বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির অভিযোগ, ভোট পরবর্তী সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, তোলাবাজি, হুমকি এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধে তিনি লিপ্ত। যদিও সঞ্জয় দাস এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি এখনো তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। তবে দল যদি விளக்கம் চায়, তবে তিনি অবশ্যই তার জবাব দেবেন।
দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির এই কঠোর সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্থানীয় স্তরে দুর্নীতি ও তোলাবাজি রুখতে যে ‘নো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে, এটি তারই প্রতিফলন বলে দাবি করছেন রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ। যেখানে আদি বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ ও অভিমান বাড়ছে, সেখানে এই ধরণের পদক্ষেপ সংগঠনকে শুদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তৃণমূল জমানার দুর্নীতি দমনের স্লোগান তুলে ক্ষমতায় আসা বিজেপি যে নিজেদের ঘরের খবরদারিও সমান কঠোরভাবে করবে, এই সাসপেনশন তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল। এখন দেখার, ৭ দিনের মধ্যে ওই দুই নেতা কী জবাব দেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়।

