দিনহাটা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (Meeting Election 2026) প্রাক্কালে ফের তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের দিনহাটা (Dinhata)। বুধবার দুপুরে দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের ছোট বোয়ালমাড়ি এলাকায় বিজেপির একটি সাংগঠনিক সভার মঞ্চ ও সভাস্থল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছে শাসকদল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর তিনটে নাগাদ ছোট বোয়ালমাড়ি এলাকায় সিতাই ৩ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি শুভঙ্কর রায়ের বাড়িতে বিজেপির একটি সাংগঠনিক সভা হওয়ার কথা ছিল। সভার জন্য আগেভাগেই অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ এবং কর্মী-সমর্থকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিজেপির দাবি, দুপুর একটা নাগাদ তৃণমূল নেতা নুর আলম হোসেনের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সভাস্থলে অতর্কিতে হামলা চালায়। অভিযোগ, হামলাকারীরা সভার মঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়, কয়েক ডজন চেয়ার ভাঙচুর করে এবং সভাস্থলে রাখা দুটি মোটরবাইকও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সিতাই ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি কৃষ্ণ কমল বর্মন বলেন, ‘তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচী ভেস্তে দেওয়ার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছি এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করছি।” হামলার জেরে দলীয় কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান বিজেপি নেতৃত্ব।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দিনহাটা ১ নম্বর ব্লক সভাপতি সুধাংশু রায় পাল্টা দাবি করে বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে সস্তা প্রচার পেতেই বিজেপি নিজেদের লোক দিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে এখন তৃণমূলের নামে মিথ্যা বদনাম দিচ্ছে।’ এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনহাটার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
