উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতিতে আদর্শের লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধে যে কোনো ঘাটতি নেই, বৃহস্পতিবার লোকভবনে তার ফের প্রমাণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসুর (Biman Basu) প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্য এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এদিন সকাল সাড় ১১টায় নির্ধারিত সূচি মেনে শপথগ্রহণ শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে তৃতীয় সারিতে বসেছিলেন প্রবীণ সিপিআইএম নেতা বিমান বসু। বিষয়টি নজরে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী আসন ছেড়ে এগিয়ে যান এবং বলেন, “বিমানদা, পিছনে কেন? আপনি সামনে আসুন না।” শুধু ডাকাই নয়, নিজে হাতে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বিমানবাবুকে সামনের সারিতে নিয়ে আসেন তিনি। ফিরহাদ হাকিমের খালি আসনে বিমানবাবুকে বসিয়ে তাঁর শরীরেরও খোঁজ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জনসমক্ষে এই নিয়ে তিনবার বিমান বসুর প্রতি এমন শ্রদ্ধাবোধ দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন লোকভবনে নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবিকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Courtroom) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন এই রাজ্যপাল হিন্দিতে শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীসহ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে এদিনের অনুষ্ঠানেও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়।
সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার পর দায়িত্ব নেওয়া আর এন রবির সঙ্গে তামিলনাড়ু সরকারের সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ। সেখানে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে তাঁর বিল সংক্রান্ত বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, স্ট্যালিন সরকার তাঁকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলায় রবির আগমনে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার। তবে শপথের প্রথম দিনেই একদিকে রাজ্যপাল-পত্নীকে উত্তরীয় পরানো এবং অন্যদিকে বিরোধী নেতার প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই বিরল সৌজন্য এক ভিন্ন বাতাবরণ তৈরি করল।
