উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লিতে আন্দোলন চলছিল পড়ুয়াদের। সেই পথ অনুসরণ করেই সম্প্রতি বিহারেও শুরু হয় ছাত্র বিক্ষোভ (Bihar Scholar Protests)। আর সেই বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠল এক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী অভিষেক প্যাটেলকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে (Bihar Cop Suspended) এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত ২৫ জুলাই ছাত্র সংগঠনের ডাকা ‘বিহার বনধ’ চলাকালীন ব্যাপক গন্ডগোল ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলেও, সিওয়ানে এক পুলিশকর্মীকে সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। এই ঘটনায় ১৫ বছরের এক কিশোর সহ অন্তত তিনজন গুরুতর জখম হন। আহতদের মধ্যে গলা লক্ষ্য করে গুলি লাগা এক কিশোরকে পাটনার জয়প্রভা মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এদিকে, এই পুলিশি হিংসার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। পুলিশি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে রাহুল গান্ধি বলেন, ‘সব জায়গাতেই একই রকম দমনপীড়ন চলছে।’ ঘটনার তীব্রতা বিচার করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court docket) একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ কুমার ঝা।
বিহার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা তাদের প্রধান দায়িত্ব হলেও এই ধরনের পদক্ষেপ প্রটোকল বহির্ভূত কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

