উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মাঝে আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই বিধানসভা নির্বাচন বিহারে (Bihar)। কিন্তু ভোটের আগেই এবার প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টির (Jan Suraaj) কর্মী দুলারচাঁদ যাদবকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন মোকামা বিধানসভা কেন্দ্রের জেডিইউ (JDU) প্রার্থী অনন্ত কুমার সিং। ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিহারে।
পাটনা পুলিশের তরফে গ্রেপ্তারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার রাতে বারহে অনন্তের বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাটনায় আনা হয়েছে বলে খবর। এদিকে, অভিযুক্ত জেডিইউ প্রার্থীর দুই সহযোগী মণিকান্ত ঠাকুর এবং রঞ্জিত রামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের সময় এই দুজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত তিনজনকে শীঘ্রই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার মোকামা বিধানসভা কেন্দ্রের জন সুরজ পার্টির প্রার্থী পীযূষ প্রিয়দর্শীর হয়ে নির্বাচনি প্রচারে বেরিয়েছিলেন দুলারচাঁদ যাদব। সেই সময় ওই এলাকায় মিছিলে বেরিয়েছিল জেডিইউ প্রার্থী অনন্তের সমর্থকরাও। এরপরই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দল সমর্থকরা। সেই সময় গুলিও চলেছিল দাবি স্থানীয়দের। ওই গুলি লেগেই দুলারের মৃত্যু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছিল প্রথমে। কিন্তু ময়নাতদন্তের পর তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ প্রকাশ্যে আসে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, ফুসফুস ফেটে গিয়ে এবং পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙেই মৃত্যু হয়েছে দুলারের।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে অভিযুক্ত জেডিইউ প্রার্থী অনন্ত দাবি করেছিলেন, এই গোটা হামলার ষড়যন্ত্র করেছেন প্রাক্তন সাংসদ সুরজ ভান সিং। কারণ তাঁর স্ত্রী বীণা দেবী এবার মোকামা আসন থেকেই আরজেডি প্রার্থী হয়েছেন। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন জেলা নির্বাচনি আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পাটনার পুলিশ সুপার (গ্রামীণ)-কে বদলি এবং আরও তিনজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। উল্লেখ্য, আগামী ৬ এবং ১১ নভেম্বর দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হবে বিহারে। ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ১৪ নভেম্বর।
