বহরমপুর: সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্র যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয়, ঠিক তখনই পুলিশ নিয়োগের পরীক্ষায় (Police Recruitment) বড়সড় জালিয়াতি রুখে দিল প্রশাসন। অন্যের হয়ে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে বুধবার সকালে বহরমপুর স্টেডিয়াম থেকে হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক যুবক। ধৃতের নাম সুজন দাস (২৮)।
বুধবার সকালে বহরমপুর স্টেডিয়ামে পুলিশ কনস্টেবল পদের শারীরিক মাপজোক ও দক্ষতার পরীক্ষা (PET/PMT) চলছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, বীরভূমের মুরারই থানার রুদ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা নাজির রহমান নামে এক পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে মাঠে পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার বাসিন্দা সুজন দাস। প্রাথমিক পর্যায়ে সুজন কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দিতে সক্ষম হলেও, মাঠে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের মনে সন্দেহ জাগে।
সন্দেহ হতেই সুজনের আনা নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। তখনই নথিতে থাকা ছবি ও তথ্যের সঙ্গে সুজনের চেহারার ব্যাপক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই ভেঙে পড়েন ওই যুবক এবং স্বীকার করেন যে তিনি নাজির রহমানের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন।
ঘটনা সামনে আসতেই সুজন দাসকে গ্রেপ্তার করে বহরমপুর থানায় (Berhampore Police Station) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে আসল পরীক্ষার্থী নাজির রহমান আপাতত পলাতক। পুলিশ ধৃত সুজন ও পলাতক নাজির উভয়ের বিরুদ্ধেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
সাম্প্রতিককালে পুলিশ নিয়োগের পরীক্ষায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে নবান্ন। এই ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া নাকি এর গভীরে কোনো বড়সড় ‘প্রক্সি’ চক্র বা নিয়োগ জালিয়াতির দল কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পলাতক নাজির রহমানের খোঁজে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়েছে।
