উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পরিযায়ী শ্রমিক নিগ্রহের (Migrant employee) অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga)। শনিবার দফায় দফায় বিক্ষোভ এবং রেল ও সড়কপথ অবরোধের জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। এমনকি হামলা চালানো হয় যাত্রীবাহী বাসেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষপর্যন্ত লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তেজনার জেরে কৃষ্ণনগর-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মূলত শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিক খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল বেলডাঙায়। এরপর বিহারে মুর্শিদাবাদের এক শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে নতুন করে শনিবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। এদিন সকালে বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। ভাঙচুর করা হয় রেলের লেভেল ক্রসিং। এর ফলে জাতীয় সড়ক ও রেলপথে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই লাইফলাইন।
বিক্ষোভ চলাকালীন মালদা থেকে কৃষ্ণনগরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস বেলডাঙা অতিক্রম করার সময় বিক্ষোভকারীরা সেটিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর ছুড়তে শুরু করে। বাসের সামনের কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রাণভয়ে চালক আসন ছেড়ে নেমে পড়লে বাসের ভেতর আর্তনাদ শুরু করেন যাত্রীরা। ইটের আঘাতে অন্তত ছয়জন যাত্রী জখম হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, সড়কপথের পাশাপাশি রেলের উপরও হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। বেলডাঙা স্টেশনের সিগন্যাল পোস্ট এবং রেলগেটের বুম ভেঙে দেওয়ায় নিরাপত্তা খাতিরে কৃষ্ণনগর-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় পূর্ব রেল। কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস তিন ঘণ্টা কৃষ্ণনগরে দাঁড়িয়ে থাকার পর রুট ঘুরিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। রেল সূত্রে খবর, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামতের পর পরিষেবা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় অবশেষে অভিযানে নামে পুলিশ। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ তোলার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা কর্ণপাত করেননি। উলটে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
