Beautician Loss of life Case | রেললাইনে খুলুর দেহ, মোবাইল বিউটিশিয়ানের বিছানায়! জোড়া মৃত্যুর তদন্তে গোলকধাঁধায় ফালাকাটা পুলিশ

Beautician Loss of life Case | রেললাইনে খুলুর দেহ, মোবাইল বিউটিশিয়ানের বিছানায়! জোড়া মৃত্যুর তদন্তে গোলকধাঁধায় ফালাকাটা পুলিশ

শিক্ষা
Spread the love


ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: ফালাকাটা শহরের নামকরা এক বিউটিসিয়ানের (Beautician Loss of life Case) মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। ওই বিউটিসিয়ানের নাম বুল্টি দাস সাহা (৩০)। তাঁর বাড়ি ফালাকাটা শহরের সুভাষপল্লি এলাকায়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুল্টির স্বামী উত্তম সাহা ও তাঁর বন্ধু নারায়ণ মুখোপাধ্যায়কে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেই ফালাকাটা শহরের ত্রাস হিসেব পরিচিত তাপস দাস ওরফে খুলুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে মিল রোডে রেললাইনের ধার থেকে। বুল্টির মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে খুলুও জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। একদিনে জোড়া মৃত্যুতে ফালাকাটাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, ‘আমরা সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের স্বার্থে মৃত মহিলার স্বামী ও তাঁর এক বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমাদের আশা, খুব দ্রুত ঘটনার রহস্যভেদ হবে।’

মৃত বুল্টির সম্পর্কে দাদা উত্তম দাস বলেন, ‘আমাকে আমার ভাগ্নে ফোন করে বাড়িতে আসতে বলে। এসেই দেখি বোনকে নিয়ে তারা কান্নাকাটি করছে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানেই চিকিৎসকরা ওকে মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের ধারণা, বোনকে বালিশ চাপা দিয়ে বা কোমরের বেল্ট গলায় জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।’

মৃত মহিলার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে সুভাষপল্লির বিউটিসিয়ান বুল্টি দাস সাহার স্বামী বাড়িতে পার্টির আয়োজন করেছিলেন। তার আগেই তাঁদের একমাত্র নাবালক পুত্রকে পাশে চলতে থাকা একটি কীর্তনের আসরে পাঠিয়ে দেন। তবে বাড়িতে ছিলেন বুল্টি। পরে বাড়ির ছাদে মদের আসর বসান স্বামী উত্তম। সেখানে তাঁর দুই বন্ধু তাপস ও নারায়ণ উপস্থিত ছিলেন। অনেক রাত পর্যন্ত চলে তাঁদের পার্টি। প্রায় শেষদিকে খুলু ফের মদ আনতে ছাদ থেকে নীচে নামেন। এরমধ্যে উত্তম ও বন্ধু নারায়ণ পাশেই কীর্তনের আসরে চলে যান। একসঙ্গে প্রসাদ খাবেন বলে দুজনে খুলুকে ফোন করেন। কিন্তু খুলু নাকি ফোন তোলেননি। তাই দুজনে প্রসাদ খেয়ে বাড়ি ফেরেন।

বুল্টির সম্পর্কে বড়দা নারায়ণ দাস জানিয়েছেন, উত্তম প্রসাদ খেয়ে তার নাবালক ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকে বলে জানিয়েছে। বাড়ি থেকেই বুল্টির ছেলে মামা উত্তমকে ফোন করে। তিনি বোনের বাড়িতে ছুটে আসেন। এসে দেখেন, বুল্টিকে নিয়ে সকলে বাড়ির ভেতরে বসে আছেন। ওই সময় নারায়ণ একটি অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে আসেন। তাতে চাপিয়েই বুল্টিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ এসে মৃতদেহ নিয়ে যায়।

এদিকে, ওই রাতেই রহস্যজনকভাবে ফালাকাটা শহরের মিল রোড ওভারব্রিজের কিছুটা দূরে রেললাইনের ধার থেকে খুলুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে খুলুর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে এক ছাত্রীকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনায় দীর্ঘদিন তিনি জেল খাটেন। বছর দুয়েক আগে তিনি নিম্ন আদালতে বেকসুর খালাস পান। যদিও মৃত ছাত্রীর বাবা বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে, মৃত বুল্টির শোয়ার ঘর থেকে খুলুর মোবাইল ফোন পাওয়া গিয়েছে। আবার মিল রোড ওভারব্রিজ থেকে মিলেছে খুলুর বাইক। তবে রেল পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহে তেমন কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই শহরে একদিনে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুটি মৃত্যুর পিছনে যোগসূত্র আছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *