বর্ধমান: মানবসেবার অনন্য উদাহরণ তৈরি করলেন পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) কেতুগ্রামের বাসিন্দা তরুণ শেখ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহকর্মীকে বাঁচাতে প্রথমবার রক্তদান করার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা ১০২ বার রক্তদানে এসে ঠেকেছে। তাঁর এই নিঃস্বার্থ সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি কলকাতার স্বাস্থ্যভবনে তাঁকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পেশাগত জীবনে মিস্ত্রির কাজ করলেও তরুণবাবুর আসল পরিচয় আজ একজন অনুপ্রেরণাদায়ী রক্তদাতা হিসেবে। তাঁর রক্তদানের এই অনুপ্রেরণার পিছনে রয়েছে এক আবেগঘন ঘটনা। প্রায় ১৮ বছর বয়সে তাঁর সঙ্গে কাজ করা এক সহকর্মী গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত হন। সেই সময় তাঁর প্রাণ বাঁচানোর তাগিদেই প্রথমবার হাসপাতালে গিয়ে রক্তদান (Blood Donation) করেন তরুণ। তাঁর সেই দানেই প্রাণে বেঁচে যান সহকর্মী। সেই থেকেই রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানোর ব্রত নেন তিনি।
শুধু নিজেই রক্তদান করে ক্ষান্ত থাকেননি তরুণ শেখ, সমাজেও এর প্রচার চালিয়ে গেছেন। ‘রক্তদান মহৎ কাজ, একজনের দেওয়া রক্তে বেঁচে যেতে পারে আর একজনের প্রাণ’—এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছেন তিনি। দীর্ঘ বছরের সাধনায় তাঁর রক্তদানের সংখ্যা এখন ১০২-এ পৌঁছেছে।
সম্প্রতি কলকাতার স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ শেখকে ডেকে পাঠান এবং তাঁর এই মহৎ কাজের জন্য তাঁকে সম্মানিত ও পুরস্কৃত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাত থেকে এই সম্মান পাওয়ার পর আপ্লুত তরুণবাবু জানান, “রক্তদান করে যাওয়ার জন্য এমন সম্মান পাবো তা কোনদিন ভাবতে পারিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই পুরস্কার লাভ আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।” তাঁর এই কীর্তিতে গোটা জেলাজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে।

